বাংলা সিনেমার মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণ দিবস ২৪ জুলাই। প্রতি বছর এই দিনে তার স্মরণে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে টলিউডের অভিনয়শিল্পীদের দেওয়া হয় ‘মহানায়ক সম্মান’। এবারও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি সম্মাননা তুলে দেন বিজয়ীদের হাতে। এবার পেয়েছেন কোয়েল মল্লিক, শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি, শুভশ্রী গাঙ্গুলী, অঙ্কুশ হাজরা, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, সোহিনী সরকার ও সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। তবে এরই মধ্যে সম্মাননাটি নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। অভিযোগ রয়েছে, এটি কেবল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল তৃণমূল সমর্থকদের হাতে ওঠে। কোয়েল মল্লিক, অনির্বাণ ভট্টাচার্য আর সোহিনী সরকারকে নিয়ে তেমন নেতিবাচক মন্তব্য না এলেও বাকিদের নিয়ে তুমুল সমালোচনায় মজেছেন নেটিজেনরা। শ্রাবন্তী ও শুভশ্রী নিঃসন্দেহে গুণী অভিনেত্রী, বড় তারকা। তারপরও তাদের নিয়ে কথা ওঠার কারণ, ২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগ দেন শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি। অংশ নেন লোকসভা নির্বাচনে। কিন্তু পরাজিত হন। এরপর বেশিদিন আর সেই দলে থাকেননি। ধীরে ধীরে তৃণমূলে ঘেঁষতে শুরু করেন। এবার ‘মহানায়ক’ সম্মান প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে যেন তৃণমূলের সঙ্গে তার যোগসূত্র পাকা হলো। আর শুভশ্রী তৃণমূলের এমপি চিত্রপরিচালক রাজ চক্রবর্তীর স্ত্রী। শুধু তাই নয়, এই অভিনেত্রীকে প্রায়ই তৃণমূলের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও দেখা যায়। আরেক চিত্রনায়িকা সায়ন্তিকার নামেও একই সমালোচনা। তিনি কয়েক বছর হলো ছবিই করছেন না, তবে তৃণমূলের রাজনীতিতে নিয়মিত। এ জন্যই তাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে মন্তব্য নেট নাগরিকদের। আর নায়ক অঙ্কুশের প্রসঙ্গে অনেকেই বলছেন, তিনি তো অভিনয়টাই ঠিকমতো করতে পারেন না। তাকে কেন এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মাননা!
তবে এসব সমালোচনায় বরাবরের মতো কোনো ভ্রুক্ষেপই করছেন না তারকারা। পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্ত ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেছেন শ্রাবন্তী। সঙ্গে লিখেছেন, “বাংলা চলচ্চিত্রশিল্পে আমার অবদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষে আমাদের প্রিয় দিদির কাছ থেকে সম্মানজনক ‘মহানায়ক’ পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিত এবং উচ্ছ্বসিত। এভারগ্রিন ম্যাটিনি আইডল উত্তম কুমারকে স্মরণ করছি। ধন্যবাদ সৃষ্টিকর্তা, ধন্যবাদ আমার ভক্তদের।”
সম্প্রতি শ্রাবন্তী ‘আমি আমার মতো’ নামের একটি সিনেমার কাজ শুরু করেছেন। এতে তার সঙ্গে আছেন জিতু কমল। ছবিটি পরিচালনা করছেন কমলেশ্বর মুখার্জি।
