মর্যাদার অ্যাশেজ ভস্মপাত্র এখনো অস্ট্রেলিয়ার কাছেই আছে। এই সিরিজ শেষেও থাকবে। চলতি অ্যাশেজের চার ম্যাচ শেষে অজিরা ২-১-এ এগিয়ে থাকায় সিরিজ হারের ভয় নেই প্যাট কামিন্সদের। তাই ভস্মপত্র হারানোর চিন্তাও নেই। বরং বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপার সঙ্গে অ্যাশেজ ট্রফিও ঘরে নেওয়ার হাতছানি তার সামনে। এমন সুখের আবেশে থাকার সুযোগ নেই বেন স্টোকসের। ওল্ড ট্রাফোর্ডে বৃষ্টির কারণে ভস্মপত্র কেড়ে নেওয়ার সুযোগ হারায় ইংল্যান্ড। তাই বলে স্বাগতিকদের একেবারে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। ওভালে শেষ ম্যাচটি জিতে গেলে ভস্মপাত্র উদ্ধার করা না হোক সিরিজ তো ড্র করা হবে। ইংল্যান্ড এখন সেদিকেই নজর দিচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার অত চিন্তা নেই। ওভালে ড্র করলেও ইংল্যান্ড থেকে ট্রফি নিয়ে দেশে ফিরবেন কামিন্সরা। তবে অজি অধিনায়ক জানিয়েছেন কোনো ছাড় নয়, সিরিজ জিতেই শেষ করতে চান তারা।
‘বাজবল’ খেলতে গিয়ে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। ওই মানসিকতা দলটির বড় ক্ষতিও করেছে। এজবাস্টন ও লর্ডসে টানা দুই হারে কঠোর সমালোচনা হয় ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও বেন স্টোকসের টেস্ট মানসিকতা নিয়ে। হেডিংলি টেস্ট জিতে সিরিজে ফিরে ইংলিশরা। ওই জয় না থাকলে সমালোচনার ঢেউ আরও বাড়ত তাদের ওপর। এক জয়ে আশা জাগে সিরিজে ফেরার এবং জিতে নেওয়ারও। ওল্ড ট্রাফোর্ডে চালকের আসনে বসে স্টোকসরা সেই আশা আরও বড় করেন। কিন্তু শেষ দুই দিনে বৃষ্টি সমস্ত পরিকল্পনাই ভেস্তে দেয় দলটির।
ইংলিশ অধিনায়ক স্টোকসও বেশ আক্ষেপ করলেন ওই ম্যাচ ড্র হওয়ায়। অ্যাশেজের শেষ ম্যাচের আগে সিরিজ ড্র করার এমন সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় সত্যিই হতাশ স্টোকস, ‘আমি কখনই কোনো মাঠ বা ম্যাচ থেকে আবেগ ছাড়া ফিরি না। কোনো এক মনের অবস্থা তৈরি হবেই। ম্যানচেস্টারের অনুভূতিটা অদ্ভুত। কারণ আবহাওয়া ম্যাচটিকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিয়েছে। আমরা সবাই-ই হতাশ হয়েছি। এখন ওই অনুভূতিটা কাটিয়ে উঠেছি এবং এই সপ্তাহের জন্য তৈরি।’
ইংল্যান্ডের ‘বাজবল’ মানসিকতা টেস্টে বেশ আলোচিত। এখন ভারতও উইন্ডিজের বিপক্ষে দ্রুত রান তোলার গতিটা ধরেছে। সেই গতি অস্ট্রেলিয়া বা অন্য কোনো দলের ধরা উচিত কিনা এই প্রশ্নে স্টোকস বলেন, ‘যে খেলাটা আমরা খেলি... এই দলে যারা আছে তাদের সঙ্গে এই ধরনটা একেবারে মানিয়ে গেছে। এটা নিয়ে আমরা সন্তুষ্ট। অন্য দল কীভাবে খেলবে, আমাদের অনুসরণ করবে কি না এসব আমার বলার বিষয় না।’
শেষ টেস্টে ম্যানচেস্টারের দলটাই রেখেছে ইংল্যান্ড। অপরিবর্তিত দলে একমাত্র সমালোচনা জেমস অ্যান্ডারসন। তিন টেস্টে ৭৬.৭৫ গড়ে মাত্র ৪ উইকেট পাওয়া কিংবদন্তি এই পেসারের একাদশে থাকা ভালো চোখে দেখছেন না অনেকেই। তবে স্টোকস অ্যান্ডারসনের ক্যারিয়ারের ৬৮৯ উইকেট সংখ্যা সামনে এনেছেন। তার কাছে অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড এখনো দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তাও মনে করিয়ে দেন।
কামিন্সরা এগিয়ে থাকলেও গত ইংল্যান্ড অ্যাশেজের পুনরাবৃত্তি এড়াতে চাইছেন। ২০১৯ অ্যাশেজের শেষ ম্যাচ হয়েছিল ওভালে। ওই ম্যাচ জিতে ইংল্যান্ড ২-২ সমতা ফেরায় সিরিজে। কামিন্স ২-০ তে এগিয়ে থেকে এমন কিছুর অভিজ্ঞতা পেতে চাইছেন না। পাশাপাশি ম্যানচেস্টারে তার দলের বাজে অবস্থার কারণে অধিনায়ক ও বোলার হিসেবে সমালোচিত হয়েছিলেন অজি মিডিয়ায়। এবার সিরিজ জিততে না পারলে সমালোচনার চাপটা বাড়বে। পাশাপাশি ভারতকে হারিয়ে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের আনন্দও মাটি হয়ে যাবে।
২০১৯ অ্যাশেজের স্মৃতি টেনে কামিন্স বলছিলেন, ‘ওভালে ২০১৯ অ্যাশেজের কথা অবশ্যই মনে পড়ছে। ২০১৯ বিশ্বকাপ খেলা এরপর অ্যাশেজ সব মিলিয়ে আমার মনে হয়েছিল ওভাল টেস্টে হয়তো আমি খেলব না। তবুও আমি ওই ম্যাচে নিজেকে ভেতর থেকে তাগিদ দিয়েছি এগিয়ে যাওয়ার এবং ভালো করি। এবার দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট ভালো অবস্থানে আছি।’
তো টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়া একই অবস্থানে থেকে (২-১) ওভালে যাচ্ছে আর ২০০১ থেকে যা করতে পারেনি তা করার চেষ্টায় আছে। সবশেষ ২০০১ সালেই ইংল্যান্ডের মাটি থেকে অ্যাশেজ জিতে বাড়ি ফিরেছিল অস্ট্রেলিয়া। কামিন্স এবার সেই আনন্দ দিতে চাইছেন অধিনায়ক হিসেবে, ‘এমন কিছু হলে বিশাল মুহূর্ত হবে আমার ও দলের জন্য। পেছনে তাকালে এই ইংল্যান্ড সফরটা আমাদের জন্য দারুণ কেটেছে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি কিন্তু ভস্মপত্র জিতে বাড়ি ফেরা আলাদা গুরুত্ব রাখবে। সবাই জানে আমাদের দলের অনেকেরই সম্ভবত ইংল্যান্ডের মাটিতে শেষ অ্যাশেজ। তাদের জন্য শেষ বক্সে টিক দেওয়ার মতো আনন্দ হবে। এই সুযোগটা আমাদের সামনে আছে অবশ্যই দু হাতে লুফে নিতে চাইব।’
অ্যাথলেটিকসে ম্যারাথনের শেষ রাউন্ডের দৌড়ের মতো ওভাল টেস্ট দুই দলের কাছেই শেষ চেষ্টার মতো হয়েছে। শেষবারের মতো নিজেদের ম্যাচ পরিকল্পনা খাটিয়ে অ্যাশেজ মর্যাদা মাথায় তুলতে চায় ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।
