কয়লা সংকটে বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ০২:০৬ এএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক নম্বর ইউনিট কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। কয়লা সংকটের কারণে উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে ২৩০ মেগাওয়াট করা হয়েছে। পুরো উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে গেলে কেন্দ্রে মজুদ কয়লা আগামী এক মাসের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক।

আগামী ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কয়লা সরবরাহ করতে না পারলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘœ কিংবা লো-ভোল্টেজের আশঙ্কা রয়েছে। গত ২৮ জুন ৫২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিট কয়লার অভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিট ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার হলেও উৎপাদন হতো ৮০ মেগাওয়াট। সংস্কারকাজ চলায় ২ নম্বর ইউনিটে উৎপাদন এখন বন্ধ আছে। একই ক্ষমতার এই ইউনিটে আগে উৎপাদন হতো ৮০ মেগাওয়াট। ৩ নম্বর ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। এ ইউনিটে এখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এর জন্য প্রতিদিন ২ হাজার ২০০ টন কয়লা লাগছে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডে কয়লা মজুদ রয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার টন। তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই চালু রেখে স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৫ হাজার ২০০ টন কয়লার প্রয়োজন। তবে, তিনটি ইউনিট একই সঙ্গে কখনই চালানো হয় না।

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে পরিমাণ কয়লা মজুদ থাকার কথা তার চেয়ে কম থাকায় টেনেটুনে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হলেও এরপর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে, ৫০ মেগাওয়াট কমিয়ে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত চালু রাখতে হবে। এ কারণে নতুন বছর ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে। এ পর্যন্ত বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা সরবরাহ করা হয়েছে ২ লাখ ৯০ হাজার। আরও ৩০ হাজার টন কয়লা পাওয়া পাবে। প্রতিদিন কয়লা সরবরাহ দিচ্ছে তিন হাজার টন। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে সরবরাহ করা কয়লার ওপর নির্ভর করে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চলে। আগামী আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির পুরনো ১৩০৬ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলন শেষ হবে। এখন নতুন ১৪১২ নম্বর কূপ থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী বলেন, কয়লা সংকটের কারণে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন কমিয়ে আনা হয়েছে। মজুদ কয়লা শেষ হয়ে আসায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্র্তৃপক্ষ কয়লা সরবরাহ করতে না পারায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটি বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নতুন ফেজ (১৪১২ নম্বর) থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উৎপাদন শুরু হবে। খনি থেকে উৎপাদিত হচ্ছে তিন হাজার টন কয়লা। তার পুরোটাই কনভেয়ার বেল্টের মাধ্যমে পাশের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত