মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে দূত তলব প্রসঙ্গ

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০২৩, ০৬:২০ এএম

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম আলমের (হিরো আলম) ওপর হামলার ঘটনায় বিবৃতি দেওয়ায় ১৩ বিদেশি মিশন প্রধানকে তলবের প্রসঙ্গ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে উঠেছে। গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান বেদান্ত প্যাটেলকে ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি বলেছেন, গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। মার্কিন এই কর্মকর্তাকে প্রশ্ন করতে গিয়ে বলা হয়, বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ১৩ বিদেশি মিশনের প্রধানকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় এসব মিশন নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছিল। একই কারণে এর আগের গত ২০ জুলাই জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীদের তলব করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছে। একই আহ্বান জানিয়েছে পশ্চিমা মিত্র ও উন্নয়ন অংশীদাররা। কিন্তু

বাংলাদেশ সরকার করছে উল্টোটা। তারা বিদেশি কূটনীতিকদের তলব করছে। এ বিষয়ে বেদান্ত প্যাটেলের মন্তব্য জানতে চান প্রশ্নকর্তা।

জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এটা স্পষ্ট করেছি যে গণতন্ত্রে রাজনৈতিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনো দলকে সমর্থন করে না। সুষ্ঠু, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের লক্ষ্যকে আমরা সমর্থন করি। আমরা সবসময়ই বাংলাদেশের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্য অর্জনে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছি। এটা আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমরা বিশ্বাস করি যে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক সরকারি কর্মকর্তা নিজেরাই বলেছেন যে এটি তাদেরও লক্ষ্য।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১৫ মিনিট আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তাকে রাস্তায় ফেলে বেদম মারধর করে নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী কিছু লোক।

এই ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে টুইট করেছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস। এ কারণে ঢাকায় জাতিসংঘের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী শেলডন ইয়েটকে ২০ জুলাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে অসন্তোষ প্রকাশ করে সরকার। গোয়েন লুইসের অনুপস্থিতিতে তখন বাংলাদেশে জাতিসংঘ জরুরি শিশু তহবিল-ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।

একই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ডেনমার্ক, সুইডেন, নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। এই ঘটনায় গত বুধবার ১৩ বিদেশি মিশনের প্রধানকে ডেকে সরকারের অসন্তোষের কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত