চট্টগ্রামে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৩, ০৬:৫৭ এএম

নগরের আগ্রাবাদ চৌমুহনী এলাকায় পুলিশের একজন সিনিয়র এএসপিসহ তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় আটক ২১ জন জামায়াত-শিবিরকর্মীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। বিষয়টি গতকাল শুক্রবার নিশ্চিত করেছেন ডবলমুরিং থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন।

এদিকে আটক ব্যক্তিরা জামায়াত-শিবিরেরকর্মী নয় বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নগর শাখার নায়েবে আমির আজম ওবায়েদ্দুল্লাহ। এক প্রশ্নের উত্তরে নগর জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই হয়েছে। জামায়াত-শিবিরের কেউ পুলিশের ওপর হামলা বা গাড়ি ভাঙচুরে জড়িত নয়।’

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজের পর জামায়াতের নগর শাখার নেতাকর্মীরা নগরের আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড় থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি চৌমুহনী মোড়ে পৌঁছালে বাধা দেয় পুলিশ। তখন মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের ২৫-৩০ জন নেতাকর্মী পুলিশের একটি গাড়ি সামনে পেয়ে তাতে হামলা চালান। ওই গাড়ির ভেতরে পুলিশের ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার মুকুর চাকমা ছিলেন। তিনি গাড়ি থেকে বের হলে তাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন জামায়াত-শিবিরেরকর্মীরা। এ সময় পুলিশের দুই কনস্টেবলও আহত হয়েছেন। হামলায় আহত পুলিশ কর্মকর্তা মুকুর চাকমার মাথা ফেটে যায়। তিনিসহ অন্য দুই পুলিশ সদস্যকে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জন জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও যারা জড়িত তাদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন সিএমপির পশ্চিম জোনের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, জুমার নামাজের পরপর মসজিদ থেকে বের হয়ে জামায়াত-শিবিরের ২৫ থেকে ৩০ জন কর্মী চৌমুহনী মোড়ে মিছিল বের করেন। তারা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন। এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে চৌমুহনী মোড় এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

গাজীপুরে জামায়াতের বিক্ষোভ : কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা, আমিরে জামায়াতসহ গ্রেপ্তারকৃত নেতাকর্মী ও ওলামায়ে কেরামের মুক্তি এবং দ্রব্যমুল্যের নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে গাজীপুর মহানগর জামায়াত। গতকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তা থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে তারা। বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়ক হয়ে ভোগরা এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

মহানগর জামায়াত সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুলাই বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুরের পক্ষ থেকে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সহযোগিতা চেয়ে গাজীপুর জেলা জজ কোর্টের আইনজীবীদের একটি প্রতিনিধিদল জিএমপি কমিশনার কার্যালয়ের যান। সেখানে তারা রিসেপশনিস্ট দিয়ে আবেদনটি অফিসে পাঠালে কমিশনার তাদের আবেদন রিসিভ না করে কোনো প্রকার কর্মসূচি করতে নিষেধ করেন। পরে আইনজীবী দল একটি মাইক্রোবাসে করে কমিশনার কার্যালয় ত্যাগ করেন।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির মো. জামাল উদ্দিন বলেন, গত ২৫ তারিখ আমাদের একটি প্রতিনিধিদল বিক্ষোভ মিছিলটি শান্তিপূর্ণ যেন হয় এজন্য সহযোগিতার জন্য গিয়েছিলেন। অনেকেই ভাবছে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি চাইনি, সহযোগিতা চেয়েছিলাম। আমরা কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠা ও আমিরে জামায়াতসহ নেতাকর্মী ও আলেমদের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলটি করেছি।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছানোয়ার জাহান বলেন, জামায়াত নেতাকর্মীরা চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল করার চেষ্টা করে। পরে আমরা তাদের মিছিল করতে দেইনি। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত