ভোট বন্ধ রেখে প্রার্থীর পাঠানো ভোজে ব্যস্ত

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৩, ০৩:১৬ এএম

জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে। গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময় একটি ভোটকেন্দ্রে বেশ কিছু সময় ভোটগ্রহণ বন্ধ রেখে এক প্রার্থীর পাঠানো খাবার খাওয়া নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন ভোটগ্রহণকারীরা। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের শাহজাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।

দেড়টার দিকে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ পুলিশ ও প্রশাসনের লোকজন দুপুরের খাবার খেতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।

জানা গেছে, মেলান্দহ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক ৬টি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় এবং পলাতক থাকায় গত ১৮ জুন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে তাকে অপসরণ করে। পরে ওয়ার্ডটির কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়।

ওই ওয়ার্ডের উপনির্বাচনে কাউন্সিলর পদে মো. আমজাদ হোসেন কালু (টেবিল ল্যাম্প), মো. নজরুল ইসলাম খান (উটপাখি) এবং মো. মহির উদ্দিন (পানির বোতল) প্রার্থী হন। কেন্দ্রটিতে ২ হাজার ৫২১ জন ভোটার রয়েছেন।

শাহজাদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১টা ১৪ মিনিটে গিয়ে দেখা যায়, হঠাৎ করে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে একটি অটোরিকশায় করে খাবার আসে। এ সময় প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ পুলিশের কিছু সদস্য খাবারগুলো সংগ্রহ করেন। পরে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে সবাই খাবার খাওয়ায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এ সময় কিছু ভোটার ভোট দিতে এসে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে ২টার দিকে খাবার শেষ হলে আবার ভোটগ্রহণ শুরু করেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুপুর ১টা ১৪ মিনিটের দিকে ভোটকেন্দ্রে অটোরিকশা করে খাবার পাঠিয়েছেন কাউন্সিলর প্রার্থী মো. আমজাদ হোসেন কালু। অটোরিকশায় যতগুলো খাবারের প্যাকেট ছিল তা শেষ হয়ে যায়। পরে আবার খাবার নিয়ে আসেন ওই প্রার্থী।

লিপি আক্তার নামে এক ভোটার অভিযোগ করে বলেন, ‘এখানে ওনারা যা করতাছে, সবাই একসঙ্গে খাচ্ছে, ভোটাররা এখানে এসে বসে আছে। কেউ ভোট দিতে পারছে না। নিয়ম হলো দুজন ভোট নিবে। দুজন খাইতে যাবে। এখানে সবাই একসঙ্গে খাইতে গেছে। এখন ভোটাররা সবাই এসে বসে আছে। কিন্তু এটা কোনো নিয়ম না। এটা হতে পারে না, কিন্তু এরা নিয়ম ভঙ্গ করতেছে।’

প্রিসাইডিং অফিসার নাসির উদ্দিনের কাছে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে খাবার খাওয়ার নিয়ম আছে কি নাÑ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আপনিও মানুষ, আমিও মানুষ! সারা দিন কাজ করার পর তো আমাদের শরীরেরও চাহিদা থাকে। একেবারে তো বন্ধ হয়নি। আমাদের ভোটগ্রহণ চলছে।’

এ প্রসঙ্গে জামালপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ আনোয়ারুল হক বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সবাই খাবে এবং নামাজ পড়বে। তবে ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকতে পারে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত