বিএনপির সমাবেশে জননিরাপত্তা বিঘিœত না হলে কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নিয়মতান্ত্রিকভাবে তাদের যেই প্রচারণা, তাদের যে উদ্দেশ্য তারা করতে পারবে। এখানে তো আমাদের কোনো বাধা নেই। কিন্তু জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে, রাস্তাঘাট বন্ধ করলে, মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ করলে কিংবা কোনো জায়গাকে অবরুদ্ধ করলে, এটা আইনগত দ-নীয়, আপনারা জানেন।’
গতকাল রবিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস, ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছিলাম ২০১৪-১৫ সালের দিকে অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে তারা প্রচেষ্টা নিয়েছিল ঢাকাকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার। নিরীহ মানুষকে অগ্নিদগ্ধ থেকে শুরু করে, জানমাল, বাড়িঘর, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ সেগুলো দেখেছেন। তারই একটা প্রচেষ্টা আমরা কালকে (গত শনিবার) দেখেছি। তারা বলেছিলেন অবস্থান করবেন। অবস্থান বাদ দিয়ে তারা রাজপথের ওপর এসে গেছেন, এসে ভাঙচুর শুরু করেছেন। ছয়টি বাসে তারা অগ্নিসংযোগ করেছেন। অনেক গাড়িতে ইট-পাটকেল মেরে ধ্বংস করার প্রচেষ্টা নিয়েছিলেন। এতে আমরা মনে করি, তারা আইনবিরোধী কার্যক্রম করেছেন। তাই আইন অনুযায়ী যা নেওয়ার কথা, আমাদের প্রশাসন সেগুলোই নিচ্ছে।’
অগ্নিসংযোগ সরকার করাচ্ছে বিএনপির এমন অভিযোগ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এই হাস্যকর কথার জবাব আমি আপনাদের কাছেই চাই। সরকার তাদের সব সময় বলে আসছে আপনারা এগুলো করবেন না। আপনাদের সহযোগিতা চাই, আপনারা আপনাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করেন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে করেন। আমরা তাদের কোনো সমাবেশ, কোনো পদযাত্রায় আমরা বাধা দিইনি। যখনই দেখি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে আমরা সব সময়ই বলে আসছি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করলে কিংবা ভাঙচুর করলে, কিংবা অগ্নিসংযোগ করলে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী বসে থাকবে না। তাদের ওপর যেই অর্পিত দায়িত্ব সেটা তারা পালন করবে। সেটাই কালকে হয়েছে।’
বিএনপির সমাবেশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল সমাবেশ করবে, এখানে আমাদের কোনো বাধা নেই। কোন দল করল, কোন দল করল না, সেটা আমাদের বাধা নেই। আমরা শুধু সেটুকুই দেখি জনদুর্ভোগ, জানমালের ক্ষতি করে, রাস্তাঘাট বন্ধ করে, অগ্নিসংযোগ করে, সেখানে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাধা দিচ্ছে।’
