মাদ্রাসাছাত্রীকে বাস থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৩, ০২:৫৫ এএম

ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ফরিদপুরের ভাঙ্গাগামী বাস থেকে মাদ্রাসাপড়–য়া ১৩ বছরের এক যাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাসের সুপারভাইজার, হেলপারসহ এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গত সোমবার বিকেলে ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ভাঙ্গা থানায় মামলা করেন। এরপর মেয়েটিকে শারীরিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো প্রচেষ্টা পরিবহনের সুপারভাইজার আসিফ সরদার (২২), হেলপার রাকিব মাতুব্বর (২৪) ও তার মা লিলি বেগম (৫০)।

বিষয়টি নিয়ে মেয়েটির বড় বোনের জামাইয়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘মাদ্রাসাপড়ুয়া ছাত্রীটি সম্পর্কে আমার বউয়ের ছোট বোন। সে ঢাকার হাজারীবাগের একটি মহিলা মাদ্রাসায় তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী। একই এলাকায় আমার সঙ্গেই হাজারীবাগে একটি ভাড়া বাসায় থাকে। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পাঠানোর উদ্দেশ্যে রবিবার বিকেলে তাকে বাবুবাজার থেকে ভাঙ্গাগামী প্রচেষ্টা পরিবহনের একটি বাসে তুলে দিই। পরে আমার শ্বশুরকে ফোনে জানিয়ে ভাঙ্গা থেকে নামানোর জন্য বলে দিই। তার জন্য অপেক্ষা করছিলেন আমার শ্বশুর। এরপরের ঘটনা আমার শ্বশুর বলতে পারবেন।’

পরে মেয়েটির বাবার সঙ্গে কথা হলে তিনি আমাদের জানান, মেয়েটির বাবা দীর্ঘক্ষণ ভাঙ্গা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সংবাদ না পেয়ে তার বড় মেয়ের জামাইকে ফোন দেন। সেখান থেকেও কোনো খবর না পেয়ে পরে মেয়েটিকে বারবার ফোন দিতে থাকেন। কিন্তু মেয়েটির ফোন বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করার মতো কোনো অবস্থা ছিল না। একপর্যায়ে অনেক রাত পর্যন্ত অপেক্ষার পর খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে সেই রাতেই ভাঙ্গা থানা-পুলিশকে জানানো হয়।

ভাঙ্গা থানার এসআই জুয়েল রবিবার রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে পরিবারের লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামেন। পরে সকালে বাসের সুপারভাইজার আসিফকে আটক করা হয়। আসিফের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হেলপার রাকিবের বাসা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় রাকিব এবং তার মাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানায়, প্রচেষ্টা বাস থেকে ভাঙ্গায় পৌঁছানোর পর মেয়েটিকে বাসে বসে থাকতে বলে রাকিব। এরপর বাস থেকে না নামিয়ে নিরাপদে পৌঁছে দেবে বলে জানায় হেলপার রাকিবুল। কিন্তু কিছুদূর সামনে নিয়ে তাকে নামিয়ে রাকিবুল তার বাসায় নিয়ে যায়।

এ বিষয়ে মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার এসআই মনির বলেন, ওই ছাত্রীকে মেডিকেল পরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত