বাণিজ্য ঘাটতি কমে ১৭ বিলিয়নে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:৪৯ এএম

আমদানিতে কড়াকড়ির কারণে ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ব্যাপকহারে কমে গেছে। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি অর্ধেক কমে ১৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩৩ বিলিয়নের বেশি। তবে বাণিজ্য ঘাটতি কমলেও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে এখনো অস্থিরতা রয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালান্স অব পেমেন্ট) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বাণিজ্য ব্যবধান কমাতে সফল হলেও সামগ্রিক লেনদেনে বড় ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতি হওয়াই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। প্রবাসী আয় বাড়লেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়েনি। এ সময় বিদেশি বিনিয়োগ কমে গেছে, পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার অব্যাহত রয়েছে। গেল অর্থবছরে সামগ্রিক লেনদেনে ৮২২ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের এই ঘাটতি ছিল ৬৬৫ কোটি ডলার।

সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি বৃদ্ধি মানে বিভিন্ন উৎসে দেশে যে পরিমাণ বিদেশি মুদ্রা আসছে, পরিশোধ হচ্ছে তার চেয়ে বেশি। এতে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২২-২৩ অর্থবছরের বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে সাড়ে ১৩ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করেছে। তার আগের অর্থবছরে বিক্রি করে আরও ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। এভাবে ডলার বিক্রির কারণে ধারাবাহিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে এখন বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন ডলার। তবে আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ রয়েছে ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬ হাজার ৯৪৯ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। এ সময় রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ২৩৪ কোটি ডলারের পণ্য। এতে করে এক হাজার ৭১৫ কোটি ৫০ লাখ (১৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন) ডলারের বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়েছে বাংলাদেশ। বর্তমান বিনিময় হার হিসেবে দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি এক ডলার ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা ধরে) এর পরিমাণ এক লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ২৮ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রপ্তানির তুলনায় আমদানি বেশি, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী ও আশানুরূপ রেমিট্যান্স না আসা এবং বিদেশি বিনিয়োগ কমে যাওয়ায় বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতিতে পড়ছে বাংলাদেশ।

চলতি হিসাবের ভারসাম্য (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স) চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকার অর্থ হলো নিয়মিত লেনদেনে দেশকে কোনো ঋণ করতে হচ্ছে না। আর ঘাটতি থাকলে সরকারকে ঋণ নিয়ে তা পূরণ করতে হয়। সেই হিসাবে উন্নয়নশীল দেশের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকা ভালো। কিন্তু দেশে চলতি হিসাব এখনো ঋণাত্মক হয়েছে। যদিও এখন ঘাটতির পরিমাণ আগের চেয়ে অনেকটা কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩৩ কোটি ৪০ ডলার, যা ২০২০-২১ অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৮৬৩ কোটি ডলার।

প্রতিবেদনের  তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রবাসী আয় কিছুটা বেড়েছে। এ সময় ২ হাজার ১৬১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।

কমেছে বিদেশি বিনিয়োগ

দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) সামান্য কমেছে। গত ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশ যেখানে ৪৬৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারের এফডিআই পেয়েছিল। গেল অর্থবছরে তা কমে ৪৫০ কোটি ডলারে নেমেছে। তবে নিট এফডিআই কমেছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে সরাসরি মোট যে বিদেশি বিনিয়োগ আসে তা থেকে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মুনাফার অর্থ নিয়ে যাওয়ার পর যেটা অবশিষ্ট থাকে সেটাকে নিট এফডিআই বলা হয়।

আলোচিত অর্থবছরে নিট বিদেশি বিনিয়োগও কমেছে। এই সূচকটি আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ১৬১ কোটি ডলার হয়েছে। আগের অর্থবছরে নিট বিদেশি বিনিয়োগ ছিল ১৮২ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

আলোচিত সময়ে দেশের পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগেও (পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্ট) নেতিবাচক অবস্থা অব্যাহত আছে। টাকার অবমূল্যায়নের শঙ্কায় ২০১৮ সাল থেকেই বিদেশিরা পুঁজিবাজার থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২-২৩ অর্থবছরেও তাদের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের ধারা অব্যাহত রয়েছে, তবে তা আগের বছরের তুলনায় কম। ২০২২-২৩ অর্থবছরে পুঁজিবাজার থেকে বিদেশিদের নিট বিনিয়োগ প্রত্যাহারের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার,  যা আগের অর্থবছরে ছিল ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত