পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইলস লিমিটেডের ইস্যুকৃত দেশের প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাসটেইনেবিলিটি বন্ডে ২৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছে মেটলাইফ বাংলাদেশ। এই বিনিয়োগ বাংলাদেশের বন্ড বাজারের প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে এবং মেটলাইফের শক্তিশালী বিনিয়োগ পোর্টফোলিওকে আরও দৃঢ় করবে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছে মেটলাইফ বাংলাদেশ।
রানারের বন্ডে বিনিয়োগের ফলে বর্তমানে দেশের আর্থিক খাতে মেটলাইফ বাংলাদেশের সামগ্রিক বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। আন্তর্জাতিক প্রাইভেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট গ্রুপের অংশ গ্যারান্টকো রানারের ইস্যু করা বন্ডটির ঝুঁকি নিরসনে শতভাগ গ্যারান্টি দিয়েছে। এ লেনদেনে অ্যারেঞ্জার ও অ্যাডভাইজর হিসেবে রয়েছে গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেড এবং ট্রাস্টি হচ্ছে ডিবিএইচ।
রানার অটোমোবাইলসের প্রধান কার্যালয়ে সম্প্রতি এই বন্ড লেনদেন সম্পন্ন করার একটি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রানার গ্রুপের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান খান; রানার অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার চৌধুরী; প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা সানাত দত্ত এবং মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ; ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার আলা উদ্দিন; গ্রিন ডেল্টা ক্যাপিটাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মো. রফিকুল ইসলাম; গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী ফারজানা চৌধুরী এবং অন্য শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জুন রানার অটোমোবাইলস পিএলসির ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার বন্ড প্রস্তাবে সম্মতি দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। রানার অটোমোবাইলসের সাত বছর মেয়াদি অনিরাপদ, অবসায়নযোগ্য, অরূপান্তরিত, গ্যারান্টেড, সাসটেইনেবিলিটি বন্ড। বন্ডের কুপন হার হবে ৮ দশমিক ৫ থেকে ৯ শতাংশ। বহুজাতিক ও দেশীয় বীমা কোম্পানি, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেটস ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ডটি ইস্যু করা হবে।
এই বন্ডের প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য দশ লাখ টাকা। এই বন্ডের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করে রানার অটোমোবাইলস গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা, সোলার প্ল্যান্ট নির্মাণ এবং বন্ড ইস্যু-সংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয় বহন করা হবে।
বিনিয়োগ প্রসঙ্গে মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশে আমাদের বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দেশের প্রথম সাসটেইনেবিলিটি বন্ড চালুর অংশীদার হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই যুগান্তকারী বিনিয়োগ বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধি এবং সামনে আরও উন্নত আর্থিক বাজারে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনার প্রতি আমাদের আস্থার বহিঃপ্রকাশ।’
রানার অটোমোবাইলস পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুবীর কুমার চৌধুরী বলেন, ‘যাত্রা শুরুর পর থেকে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি বাংলাদেশের অটোমোবাইল খাতে অত্যাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি চালু করতে এবং পরিবহন খাতে টেকসই প্রভাব তৈরিতে ভূমিকা রাখতে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চলাচলের ক্ষেত্রে রানারের পরিবেশবান্ধব সমাধান সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশজুড়ে কমিউনিটি পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বিস্তারে রানার ২৬৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার টেকসই বন্ড ইস্যু করার জন্য গ্যারান্টকোর সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে, যা বাংলাদেশের প্রথম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাসটেইনিবিলিটি বন্ড।’
এই বন্ডের অর্থায়নের মাধ্যমে রানার অটোমোবাইলস তিন চাকার বাহন কিনতে আগ্রহী চালকদের জন্য ঋণ সুবিধা দিতে পারবে এবং একই সঙ্গে উৎপাদন সুবিধার জন্য কারখানার ছাদে চার মেগাওয়াট শক্তিসম্পন্ন সৌর প্ল্যান্ট নির্মাণ করবে। এই উদ্যোগটি প্রায় সাত হাজার চালককে তিন চাকার গাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ করে দেবে, যার ফলে চালক এবং যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আয়ের সম্ভাবনা তৈরি হবে। আশা করা হচ্ছে, এই তিন চাকার গাড়িগুলো বাংলাদেশের গ্রামীণ ও শহরাঞ্চলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষের জন্য যাতায়াত সুবিধায় ভূমিকা রাখবে।
এদিকে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির পর ২০২২-২৩ হিসাব বছরে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে রানার অটোমোবাইলস। সর্বশেষ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জুলাই-২২Ñমার্চ-২৩) কোম্পানিটির আয় কমে গেছে ৩৪ শতাংশের বেশি। এ সময় নিট লোকসান হয়েছে ৩৭ কোটি টাকারও বেশি, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে মুনাফায় ছিল কোম্পানিটি। বড় ধরনের লোকসানের কারণে রানারের শেয়ারের দর গত অক্টোবর থেকে ফ্লোর প্রাইসে আটকে আছে। শেয়ারটির লেনদেন হয় না বললেই চলে।
