দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন ট্রুডো

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩৪ এএম

দীর্ঘ ১৮ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানলেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো এবং তার স্ত্রী সোফি গ্রেগোয়ার। স্থানীয় সময় গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে প্রথম এই ঘোষণা দেন ট্রুডো। পরে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ট্রুডো দম্পতি বিচ্ছেদপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

ইনস্টাগ্রামে পোস্টে জাস্টিন ট্রুডো লেখেন, অনেক অর্থপূর্ণ ও কঠিন কথোপকথনের পরে আমরা আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের ভালোবাসা ও একে অন্যের প্রতি সম্মান দেখানোসহ যা আমরা করেছি তা সর্বদা চলমান থাকবে।

বিবিসি বলছে, ট্রুডো ও সোফির বিচ্ছেদের অপ্রত্যাশিত এ ঘোষণা বিস্মিত করেছে অনেককেই। অনেকের কাছেই ‘ঈর্ষণীয়’ ছিল ট্রুডো-সোফির দাম্পত্য জীবন। এ নিয়ে চর্চাও হয়েছে অনেক। বিচ্ছেদের ঘোষণার পর তারা নতুন করে আলোচনায় আসেন। এ আলোচনায় ট্রুডো-সোফির পরিচয়, প্রেম, বিয়ের প্রসঙ্গও ঘুরেফিরে আসছে।

সোফির সঙ্গে ট্রুডোর পরিচয়-প্রেম-বিয়ের গল্পটি ছিল অসাধারণ। তারা পরস্পরকে ছোটবেলা থেকেই চিনত, জানত। কারণ, সোফি ছিলেন ট্রুডোর ছোট ভাই মিশেলের সহপাঠী। এমনকি ছোটবেলায় ট্রুডোদের বাড়িতে সোফি আসা-যাওয়া করতেন, আড্ডা দিতেন। ২০০৩ সালে ট্রুডো ও সোফি একসঙ্গে একটি তহবিল সংগ্রহের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সে সময় তারা একে অন্যের সঙ্গে ‘নতুন’ করে পরিচিত হন। তখন তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন পর ট্রুডোকে ই-মেইল করেন সোফি। ই-মেইলে সোফি লেখেন, ট্রুডোর সঙ্গে দেখা-সাক্ষাতের ব্যাপারটি তিনি উপভোগ করেছেন। কিন্তু সোফির এই ই-মেইলের কোনো জবাব দেননি ট্রুডো। একই বছরের গ্রীষ্মের শেষ দিকে সড়কে ট্রুডো-সোফি দেখা হয়ে যায়। এ দেখায় ট্রুডোকে উপেক্ষা করতে চেয়েছিলেন সোফি। তবে এবার সোফিকে ট্রুডো তার সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। সে সময় সোফি বলেছিলেন, ট্রুডোর যদি সত্যিই তার সঙ্গে বাইরে ঘুরতে যাওয়ার ইচ্ছা থাকে, তবে তিনি যেন সেই ই-মেইলে জবাব দেন।

প্রথম ডেটে সোফিকে ট্রুডো বলেছিলেন, তিনি তার বাকি জীবন সোফির সঙ্গে কাটাতে চান। ট্রুডো জানিয়েছিলেন, এমন ঘোষণার পর তারা দুজনই কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। কারণ, তারা দুজনই খুব সংবেদনশীল মনের মানুষ ছিলেন।

৫১ বছর বয়সী জাস্টিন ও ৪৮ বছর বয়সী সোফি ২০০৫ সালে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের ১৮ বছরের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত এপ্রিলে নিজের পরিবার নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলেন তিনি। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, অন্যান্য কানাডিয়ান পরিবারের মতন তার পরিবারও বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হন।

জাস্টিন ট্রুডো হলেন কানাডার দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি ক্ষমতায় থাকাকালে বিচ্ছেদের পথে গেলেন। এর আগে ক্ষমতায় থাকাকালে বিয়েবিচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন জাস্টিন ট্রুডোরই বাবা পিয়েরে ট্রুডো। ১৯৭১ সালে গোপনে মার্গারেট সিনক্লেয়ারকে বিয়ে করেন পিয়েরে ট্রুডো। ছয় বছর একসঙ্গে থাকার পর ১৯৭৭ সালে পিয়েরে ট্রুডো ও মার্গারিট ট্রুডো আলাদা থাকার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ১৯৮৪ সালে তাদের চূড়ান্ত বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। এবার সোফির সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘোষণা দিয়ে যেন বাবার পথেই হাঁটলেন জাস্টিন ট্রুডো।

সোফি আগে সম্প্রচার মাধ্যমে একজন উপস্থাপক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে লিঙ্গ-সমতা ও মহিলাদের অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে আইনজীবী হিসেবে কাজ করছেন। স্বামী জাস্টিনের প্রচারণায় সম্মুখভাগে থাকতেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত