রাজধানীর বাজারে আগে থেকে বেড়ে থাকা নিত্যপণ্যের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি। বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ, সবজি ও মুরগি। বরং গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা দাম বেড়েছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। বাজার ঘুরে দেখা গেছে মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা এবং ডিমের ডজনে বেড়েছে ৫ টাকা।
এদিকে ঈদের পর থেকে দফায় দফায় দাম বেড়ে প্রতি কেজি আলু ৪৫-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই অবস্থা পেঁয়াজের। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
পলাশী বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। যা গত সপ্তাহেও বিক্রি হয়েছে ১৭০-১৮০ টাকায়। ২৮০ টাকার সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছিল ৩০০-৩২০ টাকায়। অর্থাৎ, গেল এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়েছে। একইভাবে লেয়ারের কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
এদিকে ডিমের বাজারে দামের প্রভাব দেখা গিয়েছে। প্রাইকারিতে ৫ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ টাকা করে। খুচরা দোকানে ১৫০-১৫৫ টাকা।
এদিকে মাছের বাজারে আসা ক্রেতাদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ দেখা গেছে। প্রতি কেজি রুই ৩৭০ থেকে ৪০০ টাকা, কাতল ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, পাবদা ৭০০ থেকে ৮৫০, চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৬০ টাকা, নলা মাছ ২৫০ টাকা ও চাষের কই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ টাকায়।
মুরগি ও মাছের বাড়তি দাম নিয়ে ব্যবসায়ীরা বলেন, চাহিদার তুলনায় বাজার সরবরাহ কম থাকা ও মাছ-মুরগির খাদ্যের দাম বাড়তি থাকায় এ দুটি পণ্যের দাম বাড়ছে।
পলাশী বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী নাদিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বাজারে মুরগির চাহিদা বেশি। যে পরিমাণের চাহিদা রয়েছে তার তুলনায় সরবরাহ একদম কম থাকায় মুরগির দাম বাড়ছে।
কারওয়ান বাজারের মাছ ব্যবসায়ী হানিফ বলেন, প্রতিদিন কম-বেশি মাছের দাম বাড়ছে। মাছের খাবারের দাম বাড়তি থাকায় উৎপাদন খরচ বাড়ছে। তাই খামারিদের থেকে বাড়তি দাম দিয়ে কিনতে হয়। সব মিলিয়ে মাছের দামটাও বেড়েছে অনেক। গেল কয়েক মাসে সব থেকে বেশি রুই মাছের দাম বেড়েছে বেশি।
এদিকে সবজির বাজারে গিয়ে তেমন সুখবর মেলেনি। আগের দামেই প্রায় সব ধরনের সবজি বিক্রি হচ্ছে। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁপে কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকায়। কচুর মুখি ৮০, পটোল ৫০-৬০, আকার ভেদে প্রতি পিস লাউ-চালকুমড়া ৭০-৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দেশি টমেটো ৮০, কচুরলতি বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০, লম্বা ও গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা, প্রতিকেজি চিচিঙ্গা ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৪৫, কাঁচামরিচ ২৪০ ও ভারতীয় টমেটো ২৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
হাতিরপুল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবজির দাম নিয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। কেননা কাঁচাবাজার ওঠানামার মধ্যে থাকে। তবে আমদানি করা টমেটোর দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি পাল্লা টমেটোর দাম পড়ে ১ হাজার ১শ টাকা।
এদিকে হিলির বাজারে আমদানি কমের অজুহাতে একদিনের ব্যবধানে পাইকারিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা। এর প্রভাব রাজধানীর বাজারে দেখা যায়নি। আগের দামেই প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা করে।
রাজধানীর খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিলি বন্দরের পেঁয়াজের দাম বাড়লে তার প্রভাব এখনই পড়বে না। তবে আগামী ২ দিনের মধ্যে বাজারে সে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাবে।
