সংবাদ সম্মেলনে ফখরুল

বিচার বিভাগকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে সরকার

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩৯ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার তার প্রধান অস্ত্র হিসেবে বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। জনগণের মৌলিক অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার, সাংবিধানিক অধিকার পুরোপুরিভাবে হরণ করে নেওয়ার জন্য এই বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছে। এতে চরমভাবে হয়রানি-নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার করা হচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষ। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে সাজা দেওয়ার প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সারা দেশে মহানগর ও জেলাপর্যায়ে বাদ জুমা প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে দ-িত করা হয়েছে এবং কারাগারে নেওয়া হয়েছে। তার (খালেদা জিয়া) সাজা হলো সাত বছর, উচ্চ আদালতে আবার ১০ বছর সাজা দিয়েছে। অথচ একই ধরনের মামলায় আওয়ামী লীগের বহু নেতা জামিন পেয়েছেন। পরে তারা খালাস পেয়েছেন এবং মন্ত্রিত্বও করেছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা ছিল, ১/১১-এর সময় করা। সেই মামলা কৌশলে বিভিন্ন বিচারক নিয়োগ দিয়ে খারিজ করে নিয়েছেন। যে কারণে আমরা বলেছি, আদালত ও বিচার বিভাগকে ব্যবহার করছেন একটা অস্ত্র হিসেবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাতক্ষীরার সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ৭০ বছর জেল দিয়েছে। ঈশ্বরদীর মিন্টুসহ ৯ জনকে মৃত্যুদন্ড দিয়েছে। অপরাধ কী? ২৫-২৬ বছর আগে কবে কোন সময়ে কী একটা সংঘাতের ঘটনা ঘটেছিল, সেই সংঘাতের কারণে এই সাজাগুলো দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রচারমাধ্যমকে এমনভাবে ব্যবহার করছে এটাই সত্য, বাকিগুলো সব অসত্য। গণমাধ্যমকে আরেকটা হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে ব্যবহার করছে।’

মির্জা ফখরুল, ‘বাংলাদেশ গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরকে (ভিপি নুর) ভয়াবহভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে অমানবিকভাবে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করে, ভয়ংকরভাবে আহত করেছে। এর আগের রাতে তার বাসায় গোয়েন্দা শাখার লোকরা গিয়েছে। এই হচ্ছে বাংলাদেশের চিত্র। রাজনীতিবিদদের চেহারাও এ রকমই।’

কর্মসূচি ঘোষণা করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘তারেক রহমান ও তার স্ত্রী জোবাইদা রহমানকে বেআইনিভাবে অন্যায়ভাবে এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই জনগণ কিন্তু তার প্রতিবাদ করেছে। গতকাল (বুধবার) রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র দেশে প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং হাজার হাজার, লাখ লাখ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। এই রায়ের প্রতিবাদে আমরা (বিএনপি) আজ শুক্রবার (৪ আগস্ট) সারা দেশে মহানগর ও জেলাপর্যায়ে বাদ জুমা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা করছি। ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ এবং ঢাকা জেলার যৌথ উদ্যোগে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ হবে বেলা ২টায়। প্রতিটি মহানগরের সঙ্গে জেলা কমিটিও যুক্ত হয়ে মহানগরের সমাবেশগুলো করবে এবং জেলাগুলোর সমাবেশ জেলা কমিটির উদ্যোগে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের কেন্দ্রীয় নেতা মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুস সালাম, রুহুল কবির রিজভী, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপি মহাসচিব মহাখালীতে ইউনিভার্সেল মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুরুল হক নুরকে দেখতে যান। চিকিৎসকদের কাছ থেকে তার খোঁজখবর নেন। এ সময় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, বিএনপির আবদুস সালাম, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত