ডেঙ্গুতে জবি শিক্ষার্থীসহ আরও ১০ মৃত্যু

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০২:৩৯ এএম

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রুদ্র চন্দ্র সরকার। গত বৃহস্পতিবার রাত ১টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

রুদ্র চন্দ্র সরকার জবির ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার হাসনাবাদ ইউনিয়নে। বাবা সাবলু সরকার পেশায় গ্রাম্য চিকিৎসক। দুই ভাইবোনের মধ্যে রুদ্র ছিলেন ছোট।

জানা গেছে, রুদ্র রাজধানীর পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত মাসের মাঝামাঝি জ্বরে আক্রান্ত হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়নি। পরে বাড়ি চলে যান তিনি। এরপর অবস্থার অবনতি হলে গত ২৯ জুলাই কুড়িগ্রামে ফের পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর প্রথমে কুড়িগ্রামের একটি সরকারি হাসপাতালে এবং পরে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর কিডনি ও ফুসফুসে সংক্রমণ হলে গত বুধবার (২ আগস্ট) তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে ডেঙ্গুতে গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) সারা দেশে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৮ ও ঢাকার বাইরে ২ জন রয়েছে। এ নিয়ে এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেল ২৯৩ জন। ডেঙ্গুতে এর আগে দেশে আর কখনই এত মানুষের মৃত্যু হয়নি।

এর আগে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ২৮১ জন মারা যায়। ওই বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে ডেঙ্গুতে ২৭ জনের মৃত্যু হয়। সে বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয় ৬২ হাজার ৩৮২ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৭৫৭ জন। এর আগে গত ৩০ জুলাই এক দিনে ২ হাজার ৭৩১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়, যা এক দিনে এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৯২ ও ঢাকার বাইরে ৮৬৫ জন।

এ নিয়ে এ বছর মোট ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৬১ হাজার ৪৭৩ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি ৩৩ হাজার ৪৫৪ ও ঢাকার বাইরে ২৮ হাজার ১৯ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৫২ হাজার ১৫৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় হাসপাতাল ছেড়েছে ২৮ হাজার ৬৫২ এবং ঢাকার বাইরে ২৩ হাজার ৫০২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর ৮৫ শতাংশ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে, ১৫ শতাংশ ভর্তি ও মারা গেছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। এ ছাড়া এখন পর্যন্ত মোট ভর্তি রোগীর ৬৪ শতাংশ পুরুষ ও ৩৬ শতাংশ নারী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত