মোদি পদবি নিয়ে মামলায় রাহুলের সাজা স্থগিত

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪৯ এএম

মোদি পদবির মানহানি মামলায় ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সুরাটের দায়রা আদালতের দেওয়া দুই বছরের সাজা স্থগিত করেছে সুপ্রিম কোর্ট। গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি আর গাভাই, পি এস নরসিংহ ও সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ রাহুলের সাজা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এর মধ্য দিয়ে রাহুল আবার পার্লামেন্টে ফেরা এবং আগামী বছর নির্বাচনে লড়ার যোগ্য হলেন। যদিও কত দিন নাগাদ তিনি পার্লামেন্টের সদস্যপদ ফিরে পাবেন, সেটি নির্ভর করছে স্পিকারের ওপর।

এনডিটিভি জানাচ্ছে, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে ওয়েনাড থেকে নির্বাচিত এমপি রাহুল কর্ণাটকের কোলারে এক জনসভায় পলাতক ব্যবসায়ী নীরব মোদি ও ললিত মোদির সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির নামের মিল থেকে প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, সব চোরের পদবি মোদি হয় কী করে? রাহুলের সেই মন্তব্যের জেরেই তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক ও গুজরাটের সাবেক মন্ত্রী পূর্ণেশ মোদি। চলতি বছরের মার্চে গুজরাটের সুরাট আদালত ওই মামলায় রাহুলকে দোষী সাব্যস্ত করে এবং দুই বছরের কারাদণ্ডের সাজা দেয়। ফলে রাহুল লোকসভায় অযোগ্য ঘোষিত হন। সাজায় স্থগিতাদেশ চেয়ে একের পর এক আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছিলেন রাহুল। তার শেষ ভরসা ছিল সুপ্রিম কোর্ট। এবার সুপ্রিম কোর্টের রায়ে আপাতত স্বস্তি পেলেন তিনি।

সাজা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়ার সময় বিচারপতি গাভাই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা জরিমানা কিংবা দুটিই। নিম্ন আদালতের বিচারপতি সর্বোচ্চ সাজায় দণ্ডিত করেছেন। কিন্তু কেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হচ্ছে, তার সপক্ষে একটিও যুক্তি দেখাননি। শুধু ভর্ৎসনা করেছেন। তিরস্কার করেছেন। উপদেশ দিয়েছেন।

বিচারপতি গাভাই এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাহুলকে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়েছে বলেই জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তার লোকসভার সদস্যপদ খারিজ হয়েছে। সাজা এক দিন কম হলে ওই ধারা প্রযোজ্য হতো না। তিনি বলেন, এ ধরনের জামিনযোগ্য অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাজা দেওয়ার সময় কারণ দর্শানো উচিত। কিন্তু নিম্ন আদালত, এমনকি হাইকোর্টও আবেদন খারিজ করা নিয়ে গাদা গাদা পৃষ্ঠায় বহু কিছু লিখেছেন, কিন্তু কোনো কারণ দেখাননি।’

ওই বিচারক বলেন, ‘দায়রা আদালতে আপিল বিচারাধীন না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাহুলের দোষী সাব্যস্ততা স্থগিত রাখছি।’

একই সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির ‘মোদি’ পদবি নিয়ে যে মন্তব্য করার অভিযোগ রাহুলের বিরুদ্ধে উঠেছে, সে রকম মন্তব্য করার সময় তার (রাহুল) আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত ছিল বলেও উল্লেখ করেন বিচারপতি গাভাই।

সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর রাহুল গান্ধীর কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি। তবে কংগ্রেস পার্টির সদস্যরা নয়াদিল্লির দলীয় দপ্তরে সেøাগান দিয়ে, মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ উদযাপন করেছেন।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, তিনি শুক্রবারেই রাহুলকে লোকসভায় পুনর্বহাল করার জন্য স্পিকারের কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত