অনলাইন কেনাকাটা যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই বাড়ছে অনলাইনে জালিয়াতির প্রবণতাও। প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা খোয়াচ্ছেন গ্রাহকরা। সন্তানের জন্য বাইসাইকেল কিনতে গিয়ে এমনই এক তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন একটি জাতীয় দৈনিকের দুই সাংবাদিক। সম্প্রতি তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
ভুক্তভোগী দুই সাংবাদিক জানালেন, ‘বেবি বাইক বয়’ নামের সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র অনলাইনে বাইসাইকেল বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্য সরবরাহের নামে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে টাকা। চক্রটি অনলাইনে চট্টগ্রামে তাদের প্রতিষ্ঠানের যে ঠিকানা দিয়েছে, সেটার কোনো অস্তিত্বও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাদের দেওয়া শোরুমের ঠিকানাটি হলো চট্টগ্রাম সিঙ্গাপুর মার্কেট কলেজ রোড; বেবি বয় শোরুম তিনতলায় দোকান নম্বর #৬৯ লেভেল থ্রি, ব্লক বি, শপ নম্বর #৩২০।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিন সিঙ্গাপুর মার্কেটে গিয়ে ‘বেবি বাইক বয়’ নামের কোনো প্রতিষ্ঠানেরই অস্তিত্ব পাননি এ প্রতিবেদক। সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান, শুধু তৃতীয়তলায় নয়, পুরো সিঙ্গাপুর মার্কেটে এ নামের কোনো প্রতিষ্ঠান নেই। ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ‘বেবি বাইক বয়’ নামে অনলাইনে পণ্য কেনাবেচার অ্যাপে কয়েক দিন আগে একটি বাইক অর্ডার করেছিলেন তিনি। প্রতারকদের দেওয়া বিকাশে এক হাজার টাকাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পণ্য ডেলিভারির জন্য পুরো টাকা বিকাশে পেমেন্ট করতে বললে সন্দেহ হয় তার। পরে বুঝতে পারেন তিনি প্রতারকের খপ্পরে পড়েছেন। এদিকে বাইক কেনাবেচার অ্যাপে দেওয়া মোবাইল ফোন ০১৩১৭-৫৪৯৮৮৩, ০১৩১৭-৫৫০১১১ নাম্বারে একাধিকবার কল করলেও সাড়া দেয়নি প্রতারক চক্রটি।
এ ধরনের ভুয়া অনলাইন পণ্য বিক্রির প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
জানা গেছে, অনলাইনে পণ্য বিক্রির এসব প্রতিষ্ঠান প্রথমে ক্রেতাদের জানায়, অর্ডার করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঠিকানায় অর্ডারকৃত মালামাল পৌঁছে দেওয়া হবে। অগ্রিম টাকাও নেয় তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত নানা টালবাহানা করে পণ্য আর পৌঁছে দেয় না। এসব ঘটনায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা রয়েছে বলেও ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
কয়েকজন ভুক্তভোগী বলেন, বুকিং বাবদ টাকা পাঠালে মালামাল আর পাওয়া যায় না। পরে কল দিলে এই পাঠাচ্ছি, আজ নয়, কাল এমন বলে ঘোরাতে থাকে। এভাবেই চলছে সোশ্যাল মিডিয়ার অনলাইন মার্কেটিং।
‘বেবি বাইক বয়’ চট্টগ্রাম শহরে তাদের প্রতিষ্ঠানের যে ঠিকানা দিয়েছে সেটি পড়েছে ডবলমুরিং থানা এলাকায়। জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ওসি সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে প্রতারক চক্র বেড়ে গেছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন। তারপরও আমরা বসে নেই। এসব চক্রের সদস্যদের তদন্ত সাপেক্ষে আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
‘বেবি বাইক বয়’-এর প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা তাদের পণ্যের জন্য যেখান থেকে বিকাশে টাকা দিয়েছেন সেখানকার থানায় জিডি করার পরামর্শ দেন তিনি।
