গভীর রাতে ব্যাংকের ভেতর পুলিশ সদস্যের মরদেহ

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৩, ০২:৫৭ এএম

পঞ্চগড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে ফিরোজ আহমেদ (২৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলের মৃত্যু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে জেলা শহরের সোনালী ব্যাংকের ভেতরে এই ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড় পুলিশ লাইনসে কর্মরত এ সদস্য ঘটনার সময় ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ফিরোজ আহমেদ দিনাজপুর জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার পলি মির্জাপুর আবতাবগঞ্জ এলাকার আবু সাঈদের ছেলে। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা তাদের।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অন্য দিনের মতো পঞ্চগড় সোনালী ব্যাংকে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিলেন ফিরোজ। হঠাৎ গুলির শব্দ পেয়ে অন্য সহকর্মীরা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাইফেলের গুলি তার থুতনির নিচ থেকে মাথার ওপর দিয়ে বেরিয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুলিশ সদস্য ফিরোজ আহমেদ পঞ্চগড় পুলিশ লাইনসে কর্মরত ছিলেন। গ্রামের বাড়িতে তার স্ত্রীসহ ছয় মাস বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তবে কয়েকদিন আগে তিনি জেলা শহরের ইসলামবাগ মহল্লায় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক কিশোরীকে (১৭) নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটনার খবর পেয়ে সেই কিশোরী হাসপাতালে ছুটে যায় এবং নিজেকে ফিরোজের স্ত্রী পরিচয় দিয়ে বিলাপ করতে থাকে। কিশোরীর দাবি, নিহত ফিরোজ আহমেদ তাকে এফিডেভিটের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন এবং তার সঙ্গেই তিনি সংসার করছিলেন।

যদিও কিশোরীর খালাতো ভাই মো. সুজন বলেন, আমার খালাতো বোন দিনাজপুরে একটি মেসে থেকে লেখাপড়া করত। কয়েকদিন থেকে সে নিখোঁজ ছিল। তিনি বা তার পরিবার বিয়ের বিষয়ে কিছু জানে না।

এদিকে এ ঘটনায় নিহত ফিরোজের বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। শুক্রবার বিকেলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা পুলিশের কাছ থেকে ফিরোজের মরদেহ নিয়ে যান।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা সাইদুল ইসলাম বলেন, ওই পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। তার থুতনির নিচে ও মাথার ওপরে গর্তসহ মারাত্মক জখম হয়েছে। ক্ষত দেখে গুলিতে মারা গেছেন বলেই মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পর আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

সদর থানা পুলিশের ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা বলেন, ওই পুলিশ সদস্য নিজেই নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পারিবারিক কোনো ঝামেলা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত