প্লাস্টিক এবং কসমেটিক সার্জারির ভিন্নতা

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩, ১০:৫৬ পিএম

প্লাস্টিক সার্জারি শব্দটি আমাদের বহুল পরিচিত।  এখনো অনেক মানুষ প্লাস্টিক সার্জারি আর কসমেটিক সার্জারিকে গুলিয়ে ফেলেন।

‘প্লাস্টিক’ শব্দের অর্থ : ‘প্লাস্টিক’ শব্দটি দ্বারা যেকোনো আকার বা আকৃতিতে রূপান্তরে সক্ষম কোনো কিছুকে বোঝায়। চিকিৎসাশাস্ত্রের ভাষায়, প্লাস্টিক সার্জারি হলো জন্মগত বা কোনো দুর্ঘটনায় বিকৃত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে টিস্যু পুনর্গঠনের মাধ্যমে সারিয়ে তোলা। শরীরের কোনো অঙ্গ আগুনে পুড়ে গেলে বা ব্রেস্ট ক্যানসারের কারণে কোনো স্তন কেটে ফেলা হলে পরবর্তী সময় পুড়ে যাওয়া ত্বক বা কেটে ফেলা স্তন পুনর্গঠন করা হয় প্লাস্টিক সার্জারির মাধ্যমে। এ ছাড়াও ভেঙে যাওয়া নাক পুনর্গঠন, ঠোঁটকাটার প্রতিকার, চিবুকের আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্লাস্টিক সার্জারি অপরিহার্য।

প্লাস্টিক ও কসমেটিক সার্জারির পার্থক্য : কসমেটিক সার্জারির মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা এবং এ ধরনের সার্জারি সাধারণত প্রয়োগ করা হয় শরীরের কর্মক্ষম কোনো অংশের ওপর। যেমন ধরুন, কোনো এক ব্যক্তির নাক একটু বেশিই বড়। সার্জারির মাধ্যমে তার নাকের আকৃতি কিছুটা ছোট করা। যেহেতু তার নাক আগে থেকেই কর্মক্ষম ছিল এবং তিনি শুধু বাহ্যিক আকৃতি পরিবর্তন করেছেন, তাই তার এই সার্জারিকে বলা হবে কসমেটিক সার্জারি। তা ছাড়াও পেটের আকৃতি কমানো, মুখের ভাঁজ দূর করা, ভ্রুর অবস্থান পরিবর্তন করা, শরীর থেকে চর্বি দূর করা ইত্যাদি কসমেটিক সার্জারির অন্তর্ভুক্ত। যেকোনো সার্জারির মতো প্লাস্টিক সার্জারিরও কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে। এসবের মধ্যে সার্জারির স্থান ফুলে ওঠা, সেখানে কালচে দাগ থেকে যাওয়া, ব্যথা এবং অস্বস্তি অনুভূত হওয়া, চুলকানি দেখা দেওয়া এবং সার্জারির স্থান অনুভূতিহীন হয়ে যাওয়া অন্যতম। তাই শারীরিক কোনো সমস্যার জন্য যদি কেউ প্লাস্টিক সার্জারির মধ্য দিয়ে যেতে চান, তাহলে অবশ্যই এই বিষয়গুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, প্লাস্টিক সার্জারি বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজন হয়। কসমেটিক সার্জারিও এর অন্তর্ভুক্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত