শ্রাবণের শেষ সময়ে বৃষ্টি পেয়ে আশাবাদী হচ্ছেন যশোরের আমন ধান ও পাট চাষিরা। চলতি বছরে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে এ অঞ্চলে তেমন বৃষ্টি না হওয়ায় একদিকে আমন ধান রোপণ ও পাট জাগ দেয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন চাষিরা।
তবে গতকাল রবিবার থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় যশোরে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে রোববার ১২ ঘণ্টায় ২২ মিলিমিটার আর সোমবার ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এতে এতদিন দুশ্চিন্তায় থাকা কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। আবহাওয়া অফিস বলছে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে।
উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের বিল হরিনা মাঠে কথা হয় কৃষক শুকুর আলীর সাথে। তিনি বলেন, পানির অভাবে অধিকাংশ চাষিই সেচের মাধ্যমে রোপা আমনের চারা রোপণের কাজ শেষ করেন। এতে বাড়তি খরচও হয়। তবে রবিবার থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে খেতে পানি জমতে শুরু করেছে। এটা আমনের ফলনের জন্যে আশীর্বাদ।
একই মাঠে কথা হয় কৃষক শরিফুল ইসলামের সাথে। তিনি বলেন, কয়েক বছর ধরে দেখছি আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি না হয়ে ভাদ্র মাসের শুরু থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। শ্রাবণ মাসের ২৩ তারিখে এসে ভারী বৃষ্টিপাতের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় আশা করা যায় আমরা আমনের ভালো ফলন পাব।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হক বলেন, যশোরে চলতি মৌসুমে ১ লাখ ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ জমির ধানের রোপণ শেষ হয়েছে। বাকি জমিতে আর কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে বলে তিনি জানান।
তিনি বলেন, জেলায় ২৫ হাজার ৩০০ হেক্টর পাট আবাদ হয়। পানির অভাবে কৃষকরা চিন্তায় থাকলেও শেষ সময়ে বৃষ্টি পেয়ে সে সংকট কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি মনে করেন।
যশোর বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিমান বাহিনী নিয়ন্ত্রিত আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২ মিলিমিটার ও সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সামনে আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাত বাড়বে বলে আবহাওয়াবিদরা জানান।
