অভিশপ্ত শয়তান বিভিন্ন বিষয়ে মানুষের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘সাহাবাদের একদল মানুষ হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল যে আমরা আমাদের অন্তরে কখনো এমন বিষয় অনুভব করি, যা মুখে উচ্চারণ করা আমাদের কাছে খুব কঠিন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, সত্যিই কি তোমরা এমন কিছু পেয়ে থাক? তারা বলেন, হ্যাঁ, আমরা এ রকম অনুভব করে থাকি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, এটি ইমানের প্রকাশ্য প্রমাণ।’ সহিহ মুসলিম : ২৩৮
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, ‘তোমাদের একজনের কাছে শয়তান এসে বলে, কে এটি সৃষ্টি করেছে? কে ওইটি সৃষ্টি করেছে? একপর্যায়ে সে বলে, কে তোমার প্রতিপালককে সৃষ্টি করেছে? তোমাদের কারও অবস্থা এ রকম হলে সে যেন শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং এমন চিন্তাভাবনা করা থেকে বিরত থাকে।’ সহিহ বোখারি : ৩২৭৬
অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘শয়তান আদম সন্তানের রক্তনালিতেও চলাচল করতে পারে। আমার আশঙ্কা হলো, হয়তো শয়তান চলাচল করে তোমাদের মনে খারাপ ধারণা সৃষ্টি করে দেবে।’ সহিহ বোখারি : ২০৩৫
আবার মানুষ যখন নামাজের জন্য অজু করে অথবা নামাজ আদায় করতে শুরু করে তখন শয়তান মানুষের মনে এমন সন্দেহ সৃষ্টি করে যেন তার অজু নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় শব্দ শোনা বা গন্ধ না পাওয়া পর্যন্ত অজু করতে হবে না। একবার আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হলো যে তার মনে হয়েছিল যেন নামাজের মধ্যে কিছু বের হয়ে গিয়েছিল। তিনি বলেন, ‘সে যেন ফিরে না যায়, যতক্ষণ না শব্দ শুনে বা দুর্গন্ধ পায়।’ সহিহ বোখারি : ১৭৭
মানুষ এভাবে যতই খারাপ চিন্তা করুক না কেন, এ জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না বা কোনো গোনাহ লেখা হবে না, যতক্ষণ না সে এগুলো কাজে পরিণত না করে। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আমলে পরিণত করা অথবা এটা মুখে উচ্চারণ না করা পর্যন্ত আল্লাহ আমার উম্মতের মনের ওয়াসওয়াসাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।’ সহিহ বোখারি : ২৫২৮
