মৃত ঘোষণার ১৩ ঘণ্টা পর মারা গেল নবজাতক!

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৬:১২ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণার ১৩ ঘণ্টা পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার কানিহারী ইউনিয়নের বাড়মা গ্রামের মাদ্রাসাশিক্ষক সাইফুল ইসলামের স্ত্রী হালিমা খাতুন গত রবিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। নবজাতকের ওজন ছিল ৯০০ গ্রাম। সাত মাসের মাথায় জন্ম নেওয়া শিশুকে নবজাতক পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে মঙ্গলবার বেলা ১১টায় নবজাতকটিকে মৃত ঘোষণা দিয়ে মৃত্যুসনদ দেন নিউনেটোলজি বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার। ওই মৃত্যুসনদে উল্লেখ করা হয়, কম ওজন ও সময়ের আগে জন্ম নেওয়ায় মৃত্যু হয়েছে নবজাতকের।

এরপর দুপুর ১টার দিকে নবজাতকের মরদেহ নিয়ে অটোরিকশায় করে বাড়ির পথে রওনা দেন বাবা সাইফুল। পথে ময়মনসিংহের চুরখাই এলাকায় যেতেই নবজাতক হঠাৎ নড়ে ওঠে এবং নিঃশ্বাস নিতে শুরু করে। এ সময় অটোরিকশা ঘুরিয়ে বিকেল ৩টার দিকে নবজাতককে ফের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে এনআইসিইউতে রেফার করেন জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অনেকটা সময় অক্সিজেনের বাইরে ছিল বাচ্চা। দ্বিতীয়বার ভর্তির পর নবজাতককে এনআইসিইউতে চিকিৎসকরা খুব গুরুত্বসহকারে চিকিৎসা দেন। মঙ্গলবার রাত সোয়া ১২টায় নবজাতককে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রাতেই ত্রিশালের নিজ বাড়িতে নিয়ে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

হাসপাতালের নিউনেটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অতিরিক্ত কম ওজনের বাচ্চাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় শ্বাস বন্ধ থাকার ঘটনা আগেও ঘটেছে। এই নবজাতকের বিষয়ে কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত করা হবে।’

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। চিকিৎসকের গাফিলতি থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত