দাঁতের স্কেলিংয়ের আধুনিক চিকিৎসা

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৫৭ এএম

খাওয়ার পর কিছু খাবার দাঁত ও মাড়ির মাঝের খাঁজে (gingival crevice)  আটকে যায়। নিয়মিত ঠিকভাবে ব্রাশ করলে সেটা চলেও যায়। কিন্তু যদি এই সামান্য খাবারের অংশ লেগে থাকা অবস্থায় ব্রাশ না করা হয় তাহলে সেটা কিছুটা শক্ত হয়ে যায়। একে বলে প্লাক (plaque)। এই প্লাকের কিছু অংশ পরে ব্রাশের সঙ্গে উঠতে চায় না। আর প্রতিবার এ রকম একটু একটু প্লাক জমে শক্ত হয়ে তৈরি হয় ক্যালকুলাস (calculus)। সহজ বাংলায় পাথর।

স্কেলিংয়ে দাঁতের ক্ষতি হয় না

ক্যালকুলাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া মাড়িতে প্রদাহ (inflammation) তৈরি করে। ফলে মাড়ি লালচে হয়ে যায় এবং ব্রাশ করার সময় বা শক্ত কিছুতে কামড় দিলে মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। মুখে দুর্গন্ধ হয়, যেটাকে Halitosis বলে। ক্যালকুলাস মাড়ির নিচের হাড়কেও ক্ষয় করে ফেলে ধীরে ধীরে। একসময় দাঁত নড়তে থাকে এবং একটা পর্যায়ে স্কেলিংয়ে আর তা ভালো হয় না। দাঁত ফেলে দিতে হয়। এই ক্যালকুলাসকে পরিষ্কার করার প্রসেসের নামই হলো স্কেলিং। এটি সাধারণত আলট্রাসনিক মেশিনে করা হয়। অনেকে ভালো ওরাল হাইজিন মেইনটেইন করেন, এমন ব্যক্তির ছয় মাস পর স্কেলিংয়ের প্রয়োজন হয় না। আর যিনি ওরাল হাইজিনের প্রতি কেয়ারলেস তার স্কেলিংয়ের প্রয়োজন বেশি। চিকিৎসকের পরামর্শে স্কেলিং করতে হয়।

স্কেলার মেশিনের মূল মেকানিজম হলো আলট্রাসনিক ভাইব্রেশন। স্কেলিং করার কিছু স্পেসিফিক নিয়ম আছে। এসব নিয়ম না মেনে স্কেলিং করলে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। স্কেলিং করলে দাঁত ফাঁকা হয় এটা ভুল ধারণা। যখন ক্যালকুলাস সরে গেলে ক্যালকুলাসের দরুন দাঁতের থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া মাড়ি পুনরায় স্বাভাবিক জায়গায় আসতে কয়েক দিন সময় লাগে। এ সময় ওই জায়গাগুলো জিহ্বায় ফাঁকা মনে হয়। মাড়ি স্বাভাবিক জায়গায় চলে এলে দাঁত ফাঁকা হয়ে যাওয়ার এই অনুভূতি ঠিক হয়ে যায়।

স্কেলিংয়ে অনেক ব্যথা লাগে এটাও ভুল ধারণা। স্কেলারের ভাইব্রেশনের জন্য স্কেলিংয়ের সময় শিরশির অনুভূতি হয়। তবে হ্যাঁ, ক্যালকুলাসের পরিমাণ যদি খুব বেশি হয়, তবে স্কেলিংয়ের সময় বেশি শিরশির করতে পারে। তাই সময়মতো স্কেলিং করানো উচিত। সমস্যা দেখা দিলেই বা অন্তত বছরে একবার ডেন্টিস্টের কাছে চেকআপ করানো উচিত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত