ফৌজদারি মামলায় দুই আসামিকে শুনানির নির্ধারিত তারিখের আগের দিন জামিন আদেশের ঘটনায় কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইলকে তলব করেছে উচ্চ আদালত। আগামী ১৬ আগস্ট বিচারপতি মো. বদরুজ্জামানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে হাজির হয়ে তাকে ব্যাখ্যা দিতে হবে। গত বুধবার হাইকোর্টের এ আদেশের বিষয়টি গতকাল বৃহস্পতিবার জানাজানি হয়।
এদিকে গত বুধবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিচারক ইসমাইলকে কক্সবাজার থেকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাইফুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কক্সবাজারের বিচারক ১৪ আগস্ট অবসরে যাচ্ছেন। তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’ এর আগে জামিনের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করায় গত ২১ জুন ওই বিচারকে তলব করেছিল হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চ। এরপর ১৯ ও ২০ জুলাই দুদিন শুনানিকালে হাইকোর্ট বিচারককে কঠোরভাবে ভর্ৎসনা করে। ওই ঘটনায় নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান তিনি।
সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের তথ্যমতে, কক্সবাজারের টেকনাফে জমির বিরোধে মারধরের ঘটনায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় থানায় মামলা হয়। এ মামলায় দুই আসামি আবদুর রহমান ও রফিক আহাম্মেদ গত ৬ মার্চ হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন পান। পরে তারা ১৬ এপ্রিল কক্সবাজার জেলা দায়রা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। ওইদিন বিচারক ইসমাইল আবেদনের ওপর শুনানির জন্য ২৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেন। তবে নির্ধারিত তারিখে বাদীপক্ষ আদালতে এসে জানতে পারেন আগের দিন আসামিদের জামিন হয়ে গেছে।
এ জামিনের আদেশের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষে হাইকোর্টে একটি রিভিশন আবেদন হয়। গত ৭ জুন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে দুই আসামির জামিন বাতিল করে বিচারক ইসমাইলের কাছে ব্যাখ্যা চান বিচারপতি মো. বদরুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসেন দোলনের হাইকোর্ট বেঞ্চ। গত ৯ আগস্ট বিচারক ইসমাইল লিখিত ব্যাখ্যা দিলেও তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারককে তলবের এ আদেশ দেয় হাইকোর্ট। আদালতে বাদীপক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. সারওয়ার আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কে এম মাসুদ রুমী।
