ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার একদিন পর বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এছাড়া নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিবের মিছিলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে।
শনিবার (১২ আগস্ট) বিকালে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে কমিটি বাতিলে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত করায় তার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করে। শনিবার বিকাল ৫ টায় শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকায় তারা মিছিল বের করলে আহ্বায়ক কমিটি বিরোধী অংশের নেতাকর্মীরা মিছিলে হামলা করেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এসময় দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের সংঘর্ষে জেলা যুবদল সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ ১০ জন নেতাকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এ সময় পুলিশ শহরের পাইকপাড়া এলাকার যুবদল নেতা সুমন, কান্দিপাড়া এলাকার যুবদল নেতা রাজিব আহমেদ, শিমরাইলকান্দি এলাকার ছাত্রদল নেতা দিনাজ ও কান্দিপাড়ার ছত্রদল কর্মী তমাজ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করেন।
নবগঠিত জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, যারা আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা আমাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মিছিল শেষ করার পর জহিরুল হক খোকনের লোকজন আমার লোকদের উপর হামলা করে। এসময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম হোসাইন বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৪ জনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকাল থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত শহরের পাওয়ার হাউজ রোডে জেলা বিএনপির নবগঠিত ওই কমিটিকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করা দলের একাংশ নেতাকর্মীরা। এ সময় কমিটি বাতিলে ৭ দিনের আল্টিমেটামও দেন তারা। জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সভায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির ৫ সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য সভার নেতৃত্ব দেন। সভায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এ.বি. এম মোমিনুল হক, আনিছুর রহমান মঞ্জু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক ভিপি জহিরুল হক চৌধুরী লিটন, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. নজির উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ফুজায়েল চৌধুরী রুবেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাফিজ উল্লাহ প্রমূখ।
সভা শেষে রাতে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম সভার সিদ্ধান্ত পাঠ করে শোনান। এসময় তিনি লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য কমিটি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় ৭ দিন পর সভা করে কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করা হবে।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, ‘যারা সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে, মামলা খাচ্ছে, কারাবরণ করছে সে সব নেতাদের বাদ দিয়ে তেলবাজ, চামচাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এমনভাবে কমিটি গঠনের ঘটনায় আমাদের মনের মধ্যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নূরে আলম সিদ্দিকীকে সদস্য করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
