নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকোই ভরসা ২০ হাজার মানুষের

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:৫৬ এএম

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নে যমুনার একটি শাখা নদীতে সেতু না থাকায় বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ১৫টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো পার হতে গিয়ে প্রায় সময়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধরনা দিয়েও মিলছে না কোনো সমাধান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদারগঞ্জ উপজেলার জোড়খালি ইউনিয়নে প্রায় ৩০ বছর আগে যমুনার একটি শাখা নদী ফুলারপাড়াসহ ১০টি গ্রামকে আলাদা করেছে। ওই নদীটি গ্রামের মানুষজন প্রথমে নৌকা দিয়ে পার হতো। পরে নিজস্ব উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী। প্রায় ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যরে এই বাঁশের সাঁকোটি এখন অনেকটা নড়বড়ে হয়ে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ এ সাঁকো দিয়ে ফুলারপাড়া, জামিরা, পাটাদহ, কয়ড়া, চররৌহা, নান্দিনা, খলিশাকুড়িসহ দুই পাড়ের প্রায় ১৫ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছে। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে গ্রামের বয়স্ক মানুষ, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীসহ কৃষকের উৎপাদিত কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াত করে মানুষজন। একটি সেতুর অভাবে ওই এলাকার মানুষ তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। এ বাঁশের সাঁকো ছাড়া বিকল্প পথে বাজারে, ইউনিয়ন পরিষদে ও উপজেলা শহরে যেতে হলে ওই অঞ্চলের মানুষকে প্রায় ৩ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। গুনতে হয় বাড়তি টাকা। একটি সেতুর অভাবে কৃষি, শিক্ষাসহ বিভিন্ন দিকে পিছিয়ে আছে এই গ্রামগুলোর বাসিন্দারা। এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি তাদের দীর্ঘদিনের। সেতু নির্মাণের দাবিতে বিভিন্ন সময় মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়ড়া বাজারের অদূরেই ফুলারপাড়া এলাকা। কিছু পথ মাটির সড়ক দিয়ে যাওয়ার পর যমুনার শাখা নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো। সাঁকো দিয়ে মোটরসাইকেল, বাইসাইকেল, ভ্যানের পাশাপাশি মানুষ হেঁটে যাতায়াত করছে। সাঁকোর অনেক জায়গায় ভেঙে নড়বড়ে হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন এলে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেয়। পরে আর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন না।

ফুলারপাড়া এলাকার কলেজ শিক্ষার্থী আবদুল ওয়াদুদ বিদ্যুৎ বলেন, ‘সাঁকোটির বয়স পনের-বিশ বছর হয়ে গেছে। সাঁকোর মাঝে মাঝে ভেঙে গেছে। এখন আমাদের স্কুল-কলেজে যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়।’

জামিরা দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা ভাঙা বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করে। অনেক সময় বইখাতা নদীতে পড়ে যায়। সেতু না থাকায় এ অঞ্চলের বয়স্ক ও মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এ নদীর ওপর দ্রুত একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানাই।’

মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশায় রিছিল বলেন, ‘জামালপুর জেলাটি ব্রহ্মপুত্র এবং যমুনা নদী দ্বারা বেষ্টিত। ফলে এ জেলায় সেতুর চাহিদা অনেক বেশি। আমরা ক্রমান্বয়ে সবগুলো সেতুই বাস্তবায়ন করছি। জোড়খালিতে সেতু নির্মাণের জন্য আমরা পত্র প্রেরণ করেছি। প্রজেক্টটি পাস হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

জামালপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুজ্জামান সাদেক বলেন, ‘সেতুটি অনুমোদনের জন্য পত্র প্রেরণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্প পাস হলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত