বিএনপি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরোধী সংগঠন বলে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ প্রতিবেশী দেশ ভারতের কাছে অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ ভারত, সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি। এরা (আওয়ামী লীগ সরকার) একটা মার্কেটিং করে, তাদের (ভারত) কাছে একটা অপপ্রচার চালায়, বাংলাদেশে বিএনপি হচ্ছে হিন্দুবিরোধী দল সংগঠন।’ গতকাল শনিবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের প্রতিনিধি সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। এ সময় অনুষ্ঠানে আগতদের উদ্দেশে বিএনপি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিরোধী সংগঠনÑ এমনটা তারা বিশ্বাস করেন কি না জানতে চান তিনি। তখন হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাকর্মীরা সমস্বরে না-সূচক জবাব দেন।
সারা দেশ থেকে আসা শতাধিক প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেন। লন্ডন থেকে স্কাইপে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা জোর গলায় বলতে পারি, বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে তখন তারা (হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা) নিরাপদ থাকে। এখানে (বিএনপি) সব সম্প্রদায়ের অধিকারকে রক্ষার কমিটমেন্ট আছে। আর গণতন্ত্র যদি থাকে সেটা তো থাকবেই। গণতন্ত্রকে রক্ষার জন্য, এই যুদ্ধ তারেক রহমানের যুদ্ধ না, মির্জা ফখরুলের অথবা বিজন কান্তি সরকারের যুদ্ধ না, এই যুদ্ধ সব মানুষের।’
১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার শাসনামলে ভারতের রাম মন্দির-বাবরি মসজিদের ঘটনার সময় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপত্তা বিধানে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি, দোকানপাট, ব্যবসা-বাণিজ্য স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগের লোকজনই দখল করেছে। এ সরকারের আমলে বিভিন্ন স্থানে মন্দিরে হামলা, প্রতিমা ভাঙচুর, রামুতে বৌদ্ধ বিহারে অগ্নিসংযোগ-হামলার ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তরুণদের কাছে অনুরোধ, আপনাদের ছড়িয়ে পড়ে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে জয়ী হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এবার যদি না পারেন, তাহলে বাংলাদেশ অন্তত ৫০ বছরের জন্য কর্র্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রের মধ্যে পড়বে। কারও জীবনের কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।’
সংগঠনের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এস এন তপন দের সঞ্চালনায় ফ্রন্টের উপদেষ্টা অধ্যাপক সুকোমল বড়–য়া, অ্যালবার্ট পি কস্টা, অর্পণা রায় দাস প্রমুখ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
এর আগে গতকাল সকালে খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ৫৪তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে তার কবর জিয়ারত করেন মির্জা ফখরুল। সেখানে তিনি বলেন, ‘দেশজুড়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে সোচ্চার হয়েছে মানুষ। তাই তার চিকিৎসা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। একটি কুচক্রী মহল দীর্ঘকাল ধরে জিয়া পরিবারকে নির্মূলের চক্রান্তে মেতে উঠেছে। পরিষ্কার করে বলতে চাই, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় জনগণ একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাকে মুক্ত করবে এবং তার মুক্তির ব্যবস্থা করবে।’ এ সময় মহানগর বিএনপি নেতা আবদুস সালাম, আমান উল্লাহ আমান, আমিনুল হকসহ কেন্দ্রীয় ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৃতীয়তলার মিলনায়তনে চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সেখানে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ড্যাব মহাসচিব মো. আবদুস সালাম প্রমুখ।
অন্যদিকে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর উদ্যোগে মানববন্ধনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না।
