ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার এক দিন পর তা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এছাড়া নবগঠিত কমিটির সদস্য সচিবের মিছিলে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে হামলা ও সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। এর আগে গত শুক্রবার নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচির সভাপতিত্বে নতুন কমিটি বাতিলের দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়।
জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব মনোনীত করায় গতকাল তার সমর্থকরা আনন্দ মিছিল বের করে। বিকেল ৫টায় শহরের পাওয়ার হাউজ রোড এলাকায় আহ্বায়ক কমিটি বিরোধী অংশের নেতাকর্মীরা ওই মিছিলে হামলা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ সময় দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। এতে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হন। খবর পেয়ে সদর থানা-পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে লাঠিপেটা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া পুলিশ শহরের পাইকপাড়া এলাকার যুবদল নেতা সুমন, কান্দিপাড়া এলাকার যুবদল নেতা রাজিব আহমেদ, শিমরাইলকান্দি এলাকার ছাত্রদল নেতা দিনাজ ও কান্দিপাড়ার ছাত্রদল কর্মী তমাজ দেওয়ানকে গ্রেপ্তার করে।
জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘যারা আহ্বায়ক কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে তারা আমাদের নেতা তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কর্মসূচি পালন করছে। যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা মিছিল শেষ করার পর জহিরুল হক খোকনের লোকজন আমার লোকদের ওপর হামলা করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।’
সদর থানার ওসি আসলাম হোসাইন বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
এর আগে গত শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের পাওয়ার হাউজ রোডে জেলা বিএনপির নবগঠিত ওই কমিটিকে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে দলের একাংশের নেতাকর্মীরা। এ সময় কমিটি বাতিলে সাত দিনের আলটিমেটামও দেন তারা। জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত সভায় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির পাঁচ সদস্যের মধ্যে দুজন সদস্য সভার নেতৃত্ব দেন।
সভা শেষে রাতে জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম সভার সিদ্ধান্ত পাঠ করে শোনান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আগামী সাত দিনের মধ্যে বিতর্কিত ও অগ্রহণযোগ্য কমিটি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় সাত দিন পর সভা করে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
নতুন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন বলেন, ‘যারা সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে, মামলা খাচ্ছে, কারাবরণ করছে সেসব নেতাকে বাদ দিয়ে তেলবাজ, চামচাদের দিয়ে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের এমনভাবে কমিটি গঠনের ঘটনায় আমাদের মনের মধ্যে রক্তক্ষরণ হচ্ছে।’
গত বৃহস্পতিবার বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানকে আহ্বায়ক, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে সদস্য সচিব ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক খোকন, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ নূরে আলম সিদ্দিকীকে সদস্য করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
