নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছি

আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২৩, ১১:৫৬ পিএম

দুই বাংলার অন্যতম চলচ্চিত্র তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এখন ঢাকায়। যৌথ প্রযোজনার সিনেমা ‘স্পর্শ’তে অভিনয় করতে এসেছেন তিনি। বাংলাদেশি অংশের শুটিংয়ের আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানের ফিল্ম ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন তিনি। কথা বলেন চলচ্চিত্র ও ব্যক্তিজীবনের নানা বিষয়ে। লিখেছেন মাসিদ রণ

‘স্পর্শ’ সিনেমাটি নিয়ে জানতে চাই...

এটি একটি যৌথ প্রযোজনার ছবি। একটা সময় আমি প্রচুর কাজ করেছি বাংলাদেশে। তারমধ্যে যৌথ প্রযোজনার ছবিও ছিল। অনেকদিন পর আবার যৌথ প্রযোজনার কাজ ছবিতে কাজ করছি। যৌথ প্রযোজনার ক্ষেত্রে যেটা হয় আরকি, দুই দেশের সমান সংখ্যক শিল্পী, কলাকুশলী নিয়ে কাজ হয়। শুটিংও করতে হয় দুই দেশে। এরইমধ্যে আমরা কলকাতার অংশের কাজ শেষ করেছি। সেখানে মোট ১২দিন শুটিং করেছি। এবার বাংলাদেশে কাজ হবে আগামীকাল (আজ) থেকে। যদিও পুরো কাজ আমি শেষ করতে পারব না এই দফায়। অল্প কিছুদিন পর কাজ শেষ করে আবার চলে যেতে হবে মুম্বাই। বলিউডের একটি ছবিতে কাজ করছি, সেটির শুটিং হবে মুম্বাইতে। যাই হোক, স্পর্শ’র কথায় আসি। এখানে বাংলাদেশের নীরবসহ আরও অনেকে কাজ করছেন। অভিজ্ঞতা বেশ ভালো। একেবারেই ভিন্নধর্মী একটি সাবজেক্ট তাই ছবিটি করতে রাজি হয়েছি।

কাস্টিং দেখে মনে হচ্ছে ছবিটিতে অসম প্রেমের গল্প থাকতে পারে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

ছবির গল্প বা আমাদের চরিত্র নিয়ে এখনই বলতে চাই না। তবে এটুকু বলতে পারি, চরিত্রগুলো গতানুগতিক নয়। খুব ইন্টারেস্টিং বিষয় রয়েছে চরিত্রগুলোর মধ্যে। এই ছবিটি করতে রাজি হওয়ার পেছনে এটাই বড় কারণ। আসলে আমাদের কলকাতায় কিংবা বাংলাদেশে কাস্টিং নিয়ে খুব একটা এক্সপেরিমেন্ট হয়ই না। একটা জুটির ছবি বক্স অফিসে ভালো করলে দেখা যায় সেই জুটিকে নিয়েই সবাই একের পর এক কাজ করছে। কিন্তু বলিউডে বা হলিউডে খেয়াল করলে দেখবেন, কত রকমের আনইউজুয়াল কাস্টিং হয়। ওই রকম হলেই না দর্শক এক একজন পরিণত তারকাকে এক এক ভাবে দেখার সুযোগ পান। এই ছবিতে সেই রকম একটা সুযোগ রয়েছে।

আপনার আর প্রসেনজিতের জুটি দারুণ সফল। তবে এখন কি সেই জৌলুস কমে যাচ্ছে?

একদমই না। লম্বা বিরতির পর আমরা যখন ‘প্রাক্তন’ নিয়ে হাজির হলাম, ছবিটি বক্স অফিসের সব রেকর্ড ভেঙে দিল। এরপর করলাম, ‘দৃষ্টিকোণ’, সেটি সুপারহিট। এখন আমাদের জুটির ৫০তম ছবির স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে। আশা করছি সেই ছবিটিও অসাধারণ হবে।

এই জুটির জন্য অনেকেই নাকি টালিউডে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল! বিশেষ করে শ্রীলেখা মিত্র, অভিষেক চ্যাটার্জির কিছু সাক্ষাৎকারে সেটি উঠে এসেছে। এ বিষয়ে কী বলবেন?

দেখুন, এক একটি পরিস্থিতি নিয়ে এক এক জনের দৃষ্টিভঙ্গি আলাদা। এখন সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ, যে যেটা বলেন সেটাই মানুষের সামনে চলে আসে। ভালোটা বললেও আপনাকে খারাপ বলবে, খারাপটা বললেও খারাপ বলবে। আমি এগুলোকে গুরুত্ব দিই না। আমি শুধু কাজটি করে যেতে চাই। আমি নিজেকে একজন চলচ্চিত্রযোদ্ধা মনে করি। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে আমার পরিবারের কোনো যোগাযোগ ছিল না। আমি নিজেও শিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ভাগ্য আমাকে এই দিকে নিয়ে এসেছে। তারপর থেকেই আমি শুধু যুদ্ধই করে গেছি। কারও সঙ্গে আমার কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আমি শুধু নিজেকেই নিজে ছাড়িয়ে যেতে চেয়েছি সব সময়। এমন কিছু কাজ করে যেতে চেয়েছি যা আমি না থাকলেও ইন্ডাস্ট্রিতে আমার একটি ছাপ রেখে যাবে।   

আপনি চিরতরুণ। এই বয়সে কীভাবে মেইনটেইন করেন?

নায়িকাদের বয়স নিয়ে কখনোই এভাবে কথা বলতে হয় না! এ ধরনের প্রসঙ্গ এলে আমি প্রেস কনফারেন্স ছেড়ে চলে যাব। তবে হ্যাঁ, আমি আমার দর্শকের ভালোবাসার জন্যই নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করেছি। তারা চায় আমার কাজ দেখতে, আমাকে সুন্দরভাবে দেখতে। এই ভালোবাসাই আমার শক্তি।

বাংলাদেশের অন্য নায়কদের সঙ্গে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

ফেরদৌস আমার পারিবারিক বন্ধু, অনেক বছরের সম্পর্ক। সারা জীবন থাকবে। তার একটা সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, ‘মাইক’ নামের। খোঁজ নিয়ে জেনেছি সিনেমাটা ভালো চলছে। এছাড়া মান্না ভাইকে খুব মিস করি। তার স্ত্রী শেলি ভাবির সঙ্গে এখনো খুব ভালো সম্পর্ক আমার। তাদের প্রডাকশনে জ্যাম ছবিটি করছি ফেরদৌসের সঙ্গে। এছাড়া খুব সম্মান করি আলমগীরকে। তার পরিচালনাতেও আমি কাজ করেছি। অনেক নায়কের সঙ্গেই কাজ করেছি এখানে। শুধু শাকিব খানের সঙ্গে সামহাউ করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত