সমঝোতা সম্ভব কি না জানতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩, ০৪:২৯ এএম

আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথ আছে কি না, জানতে চেয়েছে বাংলাদেশে সফররত দুই মার্কিন কংগ্রেসম্যান এড কেইস ও রিচার্ড ম্যাকরমিক। তারা আরও জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশ চীনের দিকে বেশি ঝুঁকে যাচ্ছে কি না। গতকাল রবিবার তাদের সফরের প্রথম দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল মোমেন এবং আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে ব্যস্ত সময় পার করেছেন। এসব বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা আগামী নির্বাচন নিয়ে তাদের প্রত্যাশার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বলেছেন, তারা এমন নির্বাচন চান, যাতে বিশ্ব বুঝতে পারে বাংলাদেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী-মার্কিন কংগ্রেসম্যান বৈঠক : গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকায় সফররত মার্কিন দুই কংগ্রেসম্যান। বৈঠকের পর ড. আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশ চীনের খপ্পরে পড়েছে বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। তিনি বলেন, ‘তারা চীন নিয়ে বলেছে যে তোমরা চীনের ভেতরে চলে যাচ্ছ। আমরা বলেছি না। আমরা চীনের ভেতরে যাচ্ছি না। আমাদের ঋণের ১ শতাংশের মতো চীন থেকে নেওয়া। এটি বড় কোনো বিষয় নয়।’ ড. মোমেন বলেন, ‘তাদের কাছে (কংগ্রেসম্যান) বিভিন্ন লোকজন বলছে বাংলাদেশ একটি ভয়ংকর জায়গা। এরা চীনের খপ্পরে পড়ে গেছে। চীনের গোলাম হয়ে গেছে। এটি একটি ভয়ংকর জায়গা, যেখানে অশান্তি এবং পুলিশ যখন-তখন লোক ধরে ফেলছে ও মেরে ফেলছে।’

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে কংগ্রেসম্যানরা কিছু বলেছেন? এ প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ‘ফর্মুলা’ দিচ্ছে না এবং তারা সমঝোতার পথ আছে কি না, জানতে চেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি, তাদের দাবি সরকারের পতন হবে, তারপর নির্বাচন করবে, সেটির সঙ্গে আমাদের সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই। তিনি প্রতিনিধিদের বলেন, তোমাদের দেশে কি নির্বাচনের সময়ে সরকারের পতন হবে? নিশ্চয়ই না। এ ধরনের দাবি করলে কী তোমরা আলোচনা করবে? নিশ্চয়ই না। আমরা আমাদের শাসনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচন করব এবং সেটিতে সবাই অংশগ্রহণ করুক এটি আমরা চাই। কে জিতবে না জিতবে, সেটি জনগণের ওপর নির্ভর করবে।’

সংলাপের বিষয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে ঐকমত্য করার মতো কোনো দাবি-দাওয়া কারও কাছে নেই। আমরা চাই অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমাদের বিরোধী দল নির্বাচনের কোনো খবরই রাখে না। তারা চায় সরকার পতন। এটা সংলাপের জন্য কোনো বিষয়বস্তু হতে পারে না।’ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব দলের ও মতের আন্তরিকতা দরকার এবং এ বিষয়ে তারা একমত বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সব দল যদি নির্বাচনে যোগদান করে এবং তারা যদি আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারাও অবাধ, সুষ্ঠু ও সহিংসতামুক্ত নির্বাচন চায়, তবেই সহিংসতামুক্ত হবে। সরকার বা নির্বাচন কমিশন চাইলে সহিংসতামুক্ত হবে, বিষয়টি সে রকম নয়। এটির নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না, বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. মোমেন বলেন, ‘সহিংসতামুক্ত করতে হলে সবার আন্তরিকতা দরকার। আমরা বলেছি, আমাদের দেশে অংশগ্রহণ তোমাদের দেশের থেকে কয়েকগুণ বেশি। তোমাদের ওখানে লোক ভোট দেয় না, কিন্তু আমাদের এখানে অধিকাংশ লোক ভোট দেয়।’ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ মন্তব্য করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরও অধিকতর যোগাযোগ। তাতে উভয় দেশের সঙ্গে জানাশোনা হয় এবং মিথ্যা প্রচারণা সেগুলো কমে।’ রোহিঙ্গা নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয় বলেও তিনি জানান।

বিকেলে গুলশানে পিটার হাসের বাসায় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন দুই কংগ্রেসম্যান। এ ছাড়া আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন তারা।

দুই কংগ্রেসম্যান শনিবার ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন এবং আজ সোমবার তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত