ডেঙ্গু মশা দেখতে কেমন, কামড়ালে কি ফুলে যায়?

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৫৬ পিএম

বাংলাদেশে সাম্প্রতিক মাসগুলোয় ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রকট আকার ধারণ করেছে। চলতি বছর ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪১৬ জন মারা গেছেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮৭ হাজার ৮৯১ জন। সব মিলিয়ে ডেঙ্গু জ্বর এবং এর জীবাণু বহনকারী এডিস মশার তথ্য জানতে জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গু মশা দেখতে কেমন?

ডেঙ্গুর জীবাণু বহনকারী এডিস মশা খালি চোখে দেখেও শনাক্ত করা সম্ভব। কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার জানান, মশাটি মাঝারি আকারের হয়ে থাকে এবং এর গায়ে-পায়ে সাদা কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। তবে আর্মিগিয়ার নামে একটি মশার পেটেও একই ধরনের ডোরাকাটা দাগ রয়েছে। যদিও এই মশা আকারে একটু বড় হয়। অনেকে এই মশাকে এডিস অ্যাজিপ্টি বলে ভুল করে।

আপনাকে যে মশা কামড়েছে সেটি এডিস কিনা নিশ্চিত হতে মশাটির পায়ের দিকে লক্ষ্য করতে হবে। শুধুমাত্র এডিস মশার পায়েই ডোরাকাটা দাগ থাকে। এছাড়া পুরুষ মশার অ্যান্টেনা বা শুঙ্গটি কিছুটা লোমশ হয়ে থাকে। স্ত্রী মশার এমনটা থাকে না।

ডেঙ্গু মশা কামড়ালে কি ফুলে যায়?

ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী মশার নাম এডিস এজিপ্টি। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এটি ডেঙ্গু মশা নামে পরিচিত। ডেঙ্গু ভাইরাসবাহী এডিস মশা কামড়ালে ওই স্থানটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিছুটা ফুলে যায় এবং চুলকায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে মশা কামড়ানো সত্ত্বেও ফুলে যাওয়া বা চুলকানি নাও হতে পারে।

সাধারণত মশা রক্ত খাওয়ার জন্য যখন হুল ফোটায় তখন বেশিরভাগ মানুষ তা টের পান না। এর কারণ মশা হুল ফোটানোর আগে কিছুটা ব্যথানাশক ঘন তরল মানুষের ত্বকের ভেতর ছড়িয়ে দেয়। এতে কিছুক্ষণের জন্য ত্বকের ওই অংশটি অবশ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর অবশ ভাব চলে যায় এবং ত্বকের ওই জায়গা একটু চুলকায় এবং ফুলে যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মশার কামড় থেকে বাঁচতে হাত ও পা ঢেকে রাখতে হবে। এছাড়া দিনে-রাতে মশারি ব্যবহার, দরজা জানালায় নেট ব্যবহার, সেইসঙ্গে মশা নিরোধক ক্রিম, স্প্রে, প্যাচ ব্যান্ড ব্যবহার করা যেতে পারে।

মশা তাড়াতে অ্যারোসল, কয়েল, ধুপ, ম্যাট, ব্যাটও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। একসময় বলা হতো ডেঙ্গু মশা শুধুমাত্র দিনের বেলা কামড়ায়। কিন্তু এডিস মশা সম্প্রতি তাদের চরিত্র বদলেছে। এখন দিনে-রাতে সব বেলাতেই কামড়াতে পারে এডিস এজিপ্টি, বিশেষ করে রাতে যদি ঘর আলোকিত থাকে।

মশা কামড়ালেই কি ডেঙ্গু হবে?

এডিস মশা কামড়ালেই যে মানুষের ডেঙ্গু জ্বর হবে, বিষয়টি তেমন নয় বলে জানিয়েছেন কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার। তবে যে এডিস মশাটি ডেঙ্গু রোগের ভাইরাস বহন করছে, সেটি কামড়ালে ডেঙ্গু হতে পারে। আবার কোনও সুস্থ এডিস মশা যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে রক্ত পান করে তাহলে মশাটির মধ্যে ডেঙ্গুর ভাইরাস সংক্রমিত হবে।

এরপর ওই ভাইরাসবাহী মশা সংক্রমিত থাকা অবস্থায় যদি আবার সুস্থ কোনও মানুষের শরীরে কামড়ায় তাহলে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে। যেকোনও মশার মতই এডিসও সাধারণত একাধিক ব্যক্তিকে কামড়ায়। তাই ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত কোনও ব্যক্তির শরীর থেকে এডিস মশার মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার পর ওই মশার কামড়ে ডেঙ্গু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত