ঈদযাত্রার পনেরো দিনে সড়ক রেল নৌপথে নিহত ৪৩৮

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো ও কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনায় ৪৩৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৪৪২টি দুর্ঘটনায় তারা নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও এক হাজার ৩৪০ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মনিটরিং সেলের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রবিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদুল আজহায় সড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এই সময়ে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া নৌপথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জনের প্রাণহানি ও ১৬ জন আহত হয়েছেন। বিগত বছরের তুলনায় এবারের ঈদে দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনা ৩.৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৩.০৭ শতাংশ এবং আহতের সংখ্যা ৯.৪৭ শতাংশ বেড়েছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানিয়েছে, বিগত বছরগুলোর মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত এবং ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৮.৮৩ শতাংশ। ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানে ২১.৪০ শতাংশ, যাত্রীবাহী বাসে ১৬.৫৬ শতাংশ, ব্যাটারিচালিত রিকশায় ১২.৩৪ শতাংশ, কার ও মাইক্রোবাসে ৭.৮১ শতাংশ, নছিমন-করিমনে ৬.৫৬ শতাংশ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৬.৪০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনার জন্য সড়ক-মহাসড়কের ত্রুটি, বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট গর্ত এবং চালকদের আইন অমান্য করার প্রবণতা প্রধানত দায়ী করা হয়। এ ছাড়া কিছু পরিবহন মালিক অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ত্রুটিপূর্ণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন সড়কে নামিয়েছেন। চালক সংকটের কারণে প্রায় ৮০ শতাংশ যানবাহন একজন চালক দিয়েই বিরামহীনভাবে চালানো হয়েছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট দুর্ঘটনার ৪৬.৪৪ শতাংশ ছিল মুখোমুখি সংঘর্ষ, ২৯.১৮ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কা এবং ১৭.২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫০.৫০ শতাংশ দুর্ঘটনা দেশের জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ঘটেছে।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি উন্নত বিশ্বের আদলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা, চালকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং মহাসড়ক থেকে ফিটনেসবিহীন ও ধীরগতির যানবাহন অপসারণের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মহাসড়কগুলোতে ‘স্টার’ মানের সড়ক নিরাপত্তা করিডর গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক সচিব ড. এ ওয়াই এম একরামুল হক, সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব অর্পনা রায় দাশ, অর্থ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান রাসেল, দপ্তর সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বিটু প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত