জ্বালানি সংকট সমাধানে ১২ সুপারিশ বিশেষ কমিটির

আপডেট : ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ এএম

জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে তিন মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ ও জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং চালুসহ ১২ দফা সুপারিশ করেছে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গঠিত বিশেষ সংসদীয় কমিটি। গতকাল রবিবার জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন কমিটির সভাপতি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এই সুপারিশ উপস্থাপন করেন। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধ পরিস্থিতি, অবৈধ মজুদের কারণে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ গ্রহণে এ কমিটি গঠন করা হয়। এতে সরকারি দল ও বিরোধী দলের পাঁচজন করে সদস্য ছিলেন। কমিটি দুটি বৈঠক করে।

কমিটির সুপারিশগুলো হলো জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুদ সম্প্রসারণ করে কমপক্ষে ৩ মাসের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করা, জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন করে ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম চালু, অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা জোরদার করা, নবায়নযোগ্য এবং অন্যান্য বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা, ঢাকা-চট্টগ্রাম পাইপলাইন ও এসপিএম প্রকল্প এবং ইআরএল-২ দ্রুত বাস্তবায়ন করা, জনসচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা, বিপিসির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জ্বালানিপণ্য আমদানির বিষয়ে প্রয়োজনীয় স্টাডি করা, রুফটপে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি সোলার চলছে কি না, এর তদারকি জোরদার করা, সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া; তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার, উইন্ডসহ এসব খাত থেকে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিশেষ কমিটির কার্যপরিধির আলোকে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কোনো সুপারিশ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রতিবেদনে বিরোধী দল থেকে আসা ১০ দফা সুপারিশের উল্লেখ করা হয়েছে। এসব সুপারিশের মধ্যে আছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা পূর্বাভাসের জন্য রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কমিটির মাধ্যমে সমীক্ষা পরিচালনা, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া, গ্যাসের অফশোর অনুসন্ধান জোরদার করা। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তি, জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনা যাচাই ও সরকারি খাতে জ্বালানি সাশ্রয়ের সুপারিশও করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটি মনে করে, সাম্প্রতিক জ্বালানি পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। বর্তমান সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বহুমুখী জ্বালানি উৎস নিশ্চিতকরণ এবং সমন্বিত জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপ, সংসদীয় তদারকি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জনগণের সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করে কমিটি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত