৭০ শিশু-প্রসূতির জন্য ৫০০ গ্রাম আলু, ৮টি পটল!

আপডেট : ১৫ আগস্ট ২০২৩, ০৩:৪৭ পিএম

সরকারি কেন্দ্রে প্রায় ৭০ জন শিশু ও প্রসূতির জন্য তৈরি হচ্ছে খাবার। আর তাও মাত্র আটটা পটল ও ৫০০ গ্রাম আলু দিয়ে। নিম্নমানের খাবার রান্নার খবর পেয়ে ক্ষোভ সামলাতে পারেননি গ্রামবাসীরা। পরে আইসিডিএস সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা। সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের পূর্ব বর্ধমানের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ভাটাকুল গ্রামের ওই কেন্দ্রের সুপারভাইজার চায়না মাজি। তবে তাকে ঘটনাস্থলে পাননি গ্রামবাসীরা। পরে তার সহায়িকা আমিনা বেগমকে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখা হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সোমবার ছুটিতে ছিলেন চায়না মাজি। ফলে সকালে তার সহায়িকা আমিনা বেগম রান্নার কাজ শুরু করেন। এরপরেই স্থানীয় কয়েকজন অভিভাবক রান্নার কাজ দেখতে যান। তখন ভাত এবং ডিম সিদ্ধ হচ্ছিল। ওই সময় খাবার দেখে অভিভাবকরা রান্না বন্ধ রাখতে বলেন। বাধ্য হয়ে সহায়িকা শিশুদের ছুটি দিয়ে দেন। তারপর তাকে আটকে রাখা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা খোকন শেখ, হাসিনা বিবি বলেন, এই কেন্দ্রে নিম্নমানের খাবার দেওয়া হচ্ছিল। ৭০-৭২ জনের জন্য মাত্র ২৫০ গ্রাম পটল এবং ৫০০ গ্রাম আলু কেনা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, ভাতের মধ্যে অপরিষ্কার ডিমগুলো ভরে দিয়ে সিদ্ধ করা হচ্ছিল। তারপর নামমাত্র ডাল ও সবজি দিয়ে খিচুড়ি তৈরি করে শিশু ও প্রসূতিদের খাওয়ানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আগেও একাধিকবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবুও খাবারের মান বদলায়নি।

সহায়িকা আমিনা বেগম বলেন, রান্না কি হবে তা ঠিক করেন চায়না মাজি। তিনি পূজার জন্য ছুটিতে ছিলেন। আমাকে যেমন বলা হয়েছে তেমনই রান্না করেছি।

এদিকে পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে হাজির হন কেন্দ্রের সুপারভাইজার চায়না মাজি। তিনি বলেন, সরকারিভাবে যেমন বরাদ্দ হয় তেমনই খাবার দেওয়া হয়। কোনোদিন ডাল একটু কম দেওয়া হয় সত্য। তবে পরেরদিন বেশি দিয়ে পুষিয়ে দেওয়া হয়। যদিও এদিন যে সবজি কম দেওয়া হয়েছিল সবার সামনে স্বীকার করে নেন চায়না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত