হোটেলের লবি, হাসপাতালের রিসিপশন, এয়ারপোর্ট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ডের মতো পাবলিক প্লেসেই এখন মোবাইল, ট্যাবলেট চার্জিং পয়েন্ট থাকে। কিন্তু এ ধরনের পাবলিক চার্জিং পয়েন্টে ফোনে চার্জ দেওয়ার কারণে আপনার মোবাইল ফোন থেকে সব কিছু বেহাত হতে পারে। ‘জুস জ্যাকিং’-এর মাধ্যমে মানুষের গোপনীয় তথ্য সহজে বের করা সম্ভব।
এ ক্ষেত্রে চার্জিং পয়েন্টে হ্যাকারা এমন একটা ডিভাইস বসিয়ে রাখে, যার ফলে স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট থেকে যাবতীয় তথ্য চুরি করে স্টোর করে নেওয়া সম্ভব। অনেকেই ফোন থেকে মেসেজ, হোয়াটসঅ্যাপ, ই-মেল চেক করা বা ব্যাংকিং ট্রানজেকশন করেন। এমনকি পাবলিক প্লেসে চার্জিং পয়েন্টে মোবাইল বা ট্যাবলেট চার্জ দিয়ে সব কাজ করেন। এ ক্ষেত্রে ওই গ্যাজেটে যে সব তথ্য দিচ্ছি, তা আমাদের অজান্তেই প্রতারকের ডিভাইসটিতে স্টোর হয়ে যেতে পারে।
গ্যাজেটে স্টোর করে রাখা কনট্যাক্ট লিস্ট, ছবি, ভিডিও, ই-মেল সবই কপি করে নেওয়া সম্ভব। সহজেই গ্যাজেটটি হ্যাকাররা হ্যাক করতে পারে। সে তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেল করা বা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা অনলাইন ওয়ালেট খালি করে দেওয়া মুহূর্তের ব্যাপার। আরও একটা জিনিস প্রতারকরা করতে পারে। তা হলো আপনার গ্যাজেটের মধ্যে ম্যালওয়্যার বা রানসমওয়্যার ঢুকিয়ে দেওয়া। এরপর আপনার গ্যাজেটটির জিপিএস ট্র্যাক করে বা মোবাইল-ট্যাবলেটের ক্যামেরা নিজেদের আয়ত্বে নিতে পারে।
কী করবেন
সাইবার বিশেষজ্ঞরা কমন স্পেসে মোবাইল ও ট্যাবলেট চার্জ দেওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক করছে ‘জুস জ্যাকিং’-এর বিপদ নিয়ে। বিপদ এড়াতে কয়েকটা সাধারণ জিনিস মাথায় রাখা প্রয়োজন। ঘর থেকে বের হওয়ার আগে আপনার গ্যাজেটটিতে ফুল চার্জ দিয়ে বের হন, প্রয়োজনে পোর্টেবল চার্জার রাখুন। পাবলিক প্লেসে চার্জ দিতে হলেও সেখানে নিজের চার্জার নিয়ে আসুন। চার্জিং কেবল লাগালে মোবাইলের সেটিংসে গিয়ে ‘ওনলি চার্জিং’, ‘অ্যাকসেস ডেটা’, ‘ডেটা ট্রান্সফার’ অপশনের মধ্যে শুধু চার্জিং অপশনটি বেছে নিন। তখন মোবাইল সুইচ অফ রাখুন, জরুরি অ্যাপ লক রাখুন। গ্যাজেটে লাইসেন্সড অ্যান্টিভাইরাস, অ্যান্টিম্যালওয়্যার রাখা বাধ্যতামূলক।
