খুমেক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ ওষুধ দোকানিদের

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:০২ এএম

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের ওষুধের দোকানিদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে। গত সোমবার রাত ৯টার দিকে দফায় দফায় হামলা-পাল্টা হামলার সময় ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও এতে জড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা দাবি করেছেন তাদের সাতজন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দোকানদারদের দাবি, তাদের ১৫ জন আহত হয়েছেন।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তার দাবিতে সোমবার রাত ১০টা থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানলে আজ বুধবার থেকে কঠোর কর্মসূচি দেবে বলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন।

অন্যদিকে, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ওষুধের দোকানগুলো সোমবার রাত থেকে বন্ধ।

জানা গেছে, কলেজের ৩২তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ওষুধের দোকানদার ১০ শতাংশ হারে কম না রাখার জের ধরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ওষুধের দোকানদার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনের মেসার্স বিপ্লব মেডিসিন কর্নারে সবুজ সরকার নামে মেডিকেল শিক্ষার্থী কিছু ওষুধ কিনতে যান। ওষুধের দাম আসে ৭০ টাকা। ১০ শতাংশ কমিশন দিয়ে ৬৩ টাকা রাখার অনুরোধ জানান ওই শিক্ষার্থী। দোকানদার কমিশন দিতে অস্বীকার করলে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগবিত-া হয়। এর কিছুক্ষণ পর আরও কিছু মেডিকেল শিক্ষার্থীকে নিয়ে ওই দোকানে এসে কেন ওষুধের দাম কম রাখা হলো না এজন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে আশপাশের ওষুধের দোকানদাররা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। মেডিকেলের তিন শিক্ষার্থী আহত হওয়ার খবর ক্যাম্পাসে পৌঁছালে আরও শিক্ষার্থী এসে দোকানে হামলা চালান। খবর পেয়ে সেখানে সোনাডাঙ্গা মডেল থানার ওসির নেতৃত্বে একদল পুলিশ যায়। তারপরও দফায় দফায় হামলা চালান মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। পরে ওষুধের দোকানদারদের সঙ্গে এলাকাবাসী একত্র হয়ে পাল্টা হামলা করলে সংঘর্ষ তুমুল আকার ধারণ করে।

হামলা-পাল্টা হামলার একপর্যায়ে সেখানে যান খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হাসান ইফতেখার চালু, খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. দ্বীন-উল ইসলাম, উপাধ্যক্ষ ও খুলনা বিএমএর সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. মেহেদী নেওয়াজ, বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এস এম কবির উদ্দিন বাবলুসহ চিকিৎসক ও বিসিডিএস নেতারা।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অন্তর ও সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা সজিব বলেন, ওষুধের দোকানদারদের হামলায় একজন চিকিৎসক ও ছয়জন মেডিকেল শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা হলেন ডা. হাসিব, সবুজ সরকার, হাসান ফেরদৌস, মেহেদী, আসিফ, তাহসিন ও নাসির ফুয়াদ। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজন বলে দাবি করেন অন্তর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির পরিচালক মো. জিল্লুর রহমান জুয়েল বলেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের হামলায় ওষুধের দোকানের মালিক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন আল-আমিন, বিপ্লব, শাওন, ইসরাফিল, হৃদয়, সোহাগ, মোস্তফা ও মাসুদুর রহমান মাসুদ।

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম অন্তর বলেন, ‘যারা আমাদের মেডিকেল শিক্ষার্থী ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মেরে আহত করেছেন, তাদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি।’ তবে তারা গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা করেননি বলে জানান।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মমতাজুল হক বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু কোনো সমাধানে আসতে পারিনি। এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত