নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম অসুস্থ হলে করণীয়

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩, ১১:২৩ পিএম

অনেক সময় নামাজ পড়াতে গিয়ে ইমামের অজু ভেঙে যেতে পারে বা ইমাম অসুস্থ হয়ে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে ইসলামের বিধানে।

ইসলামি আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদদের মতে, যদি ইমামের অজু ভেঙে যায় বা নামাজ পড়ানোর সময় ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়েন, তাহলে ইমামের দায়িত্ব হলো তার পেছনে দাঁড়ানো ইমামতির যোগ্য এবং মাসবুক (জামাতে নামাজের কোনো রাকাত ছুটে গেছে এমন) নন এমন কোনো ব্যক্তিকে তার স্থলাভিষিক্ত করা। ইমাম পেছনে ফিরে একজনকে ইশারা করে তার স্থলাভিষিক্ত করবেন এবং সেই ব্যক্তি মুসল্লিদের নিয়ে বাকি নামাজ চালিয়ে যাবেন। এরপর ইমাম অজু করে এসে বা সুস্থতাবোধ করলে নিজের নিযুক্ত করা ইমামের ইকতেদা করে নামাজ শেষ করবেন।

সম্প্রতি মক্কার মসজিদে হারামে জুমার নামাজে একটি বিরল দৃশ্য দেখা যায়। ওইদিন জুমার খতিব ও ইমাম ছিলেন শায়খ ড. মাহির আল মুয়াইকিলি। তিনি জুমার নামাজ শুরু করলেও শারীরিক অসুস্থ অনুভব করায় তা সম্পন্ন করতে পারেননি। নামাজে শুধু সুরা ফাতেহার সামান্য অংশ পড়তে পেরেছিলেন তিনি।

এরপর তিনি পেছনে চলে যান। আর পেছনের সারি থেকে দ্রুত শায়খ ড. আবদুর রহমান আস সুদাইস এগিয়ে নামাজ সম্পন্ন করেন। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জুমার নামাজের ভিডিওটি ভাইরাল হয়। সবাই অসুস্থ ইমামের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

ঘটনা প্রসঙ্গে শায়খ আস সুদাইস জানান, ইসলামি শরিয়তে প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে ইমাম পেছনে সরে আসার নিয়ম রয়েছে। এরপর পেছন থেকে কেউ সামনে যাবেন এবং সবার ইমাম হিসেবে নামাজ সম্পন্ন করবেন। হাদিসে এমন ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। এক দিন হজরত উমর (রা.) ফজরের নামাজে আবদুর রহমান বিন আউফ (রা.)-কে তার স্থানে নিয়ে আসেন এবং হজরত আবদুর রহমান (রা.) মুসল্লিদের নিয়ে বাকি নামাজ পূর্ণ করেন।

  মুস্তাকিম বিল্লাহ

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত