শুধু আমলনামা নয় অন্তরের খবরও রাখেন আল্লাহ

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ১২:৪৩ এএম

আমরা যদি হজরত ইউসুফ আলাইহিস সালামের ঘটনাবলি পর্যালোচনা করি, তাহলে বুঝবো, কেবলমাত্র ইখলাস (একনিষ্ঠতা) থাকার কারণেই আল্লাহতায়ালা তাকে হেফাজত করেছেন। একবার নয়, বারবার। মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই সে মহিলা তার বিষয়ে চিন্তা করেছিল এবং সেও মহিলার বিষয়ে আগ্রহবোধ করত যদি না সে নিজের পালনকর্তার মহিমা অবলোকন করত। বিষয়টা এমনভাবে হয়েছে, যাতে আমি তার কাছ থেকে মন্দ বিষয় ও নির্লজ্জ বিষয় সরিয়ে দেই। নিশ্চয় সে আমার মুখলেস (মনোনীত বান্দাদের) একজন।’ সুরা ইউসুফ : ২৪

তাছাড়া অভিশপ্ত শয়তান সবাইকেই ওয়াস ওয়াসা (ধোঁকা, প্রবঞ্চনা) দিয়ে বিপথগামী করতে পারে। শুধুমাত্র তাদের ক্ষেত্রেই শয়তান ব্যর্থ হয়, যাদের অন্তরে ইখলাসের প্রকটতা থাকে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘শয়তান বলল, হে আমার পালনকর্তা! আপনি যেমন আমাকে বিচ্যুত করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ট করে দেব। শুধুমাত্র আপনার মনোনীত মুখলিসিনদের ক্ষেত্রেই আমি ব্যর্থ হব।’ সুরা হিজর : ৩৯-৪০

ইখলাসের তিন বৈশিষ্ট্য

মহান আল্লাহ শুধুমাত্র সে সব ইবাদতকারীর মনেই ইখলাস প্রবেশ করিয়ে দেন, যারা আন্তরিকভাবে ইখলাস অর্জন করতে চায়। শায়খ ওমর আবদুল কাফি (রহ.) ইখলাসের তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন, যার ভেতর ইখলাস আছে, তিনি কখনো তাকে নিয়ে পড়ে থাকেন না। কেননা, ‘আমার ইখলাস আছে’ এই বোধটি তাকে অহংকারী বানিয়ে ফেলতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলছি, যদি আমরা একান্তে রাতের আঁধারে নামাজ পড়ি, কেউ আমাকে দেখল না। নামাজের পর যদি আমরা ভাবি, আমার মধ্যেই ইখলাস আছে, কারণ আমি কাউকে দেখিয়ে নয় বরং আল্লাহর জন্যই একান্তে নামাজটি পড়লাম, তাহলে এ অনুভূতিগুলো কালক্রমে আমাদের অহংকার ও আত্মতৃপ্তির ফাঁদে ফেলে দিতে পারে।

ইখলাস হলো শুধুমাত্র আল্লাহ ও তার বান্দার সঙ্গে সম্পৃক্ত। এ বিষয়টা পুরোটাই মানসিক। বাহ্যিক ট্র্যাক রেকর্ডের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকে অনেক ইবাদত-বন্দেগি করেন, দান-খয়রাত করেন। এগুলো মানুষের আমলনামায় যুক্ত হবে, কিন্তু ইখলাস না থাকলে, দয়াময় আল্লাহ তা কবুল করবেন না। তিনি মানুষের মনের কথা জানেন, দানের উদ্দেশ সম্পর্কে অবগত, কারণ আল্লাহ অন্তর্যামী। তিনি শুধু আমলনামার রেকর্ডই দেখেন না, অন্তরের খবরও রাখেন।

হজরত আইয়ুব সাখতিয়ানি (রহ.) সারা রাত জাগ্রত থাকতেন এবং তা গোপন রাখতেন। যখন ভোর হতো তখন তিনি সজোরে হাঁক দিতেন, যেন তিনি এইমাত্র জাগ্রত হলেন। ইখলাসের ব্যাপারে আরও সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিখ্যাত বুজুর্গ ফুজাইল (রহ.)। তিনি বলেন, ‘মানুষের কারণে আমল ছেড়ে দেওয়ার নাম- রিয়া, আর মানুষের জন্য আমল করার নাম- শিরক। কিন্তু এ দুটো থেকে রেহাই পাওয়ার নামই হচ্ছে- ইখলাস।’

হজরত ইয়াকুব আল মাকফুফ (রহ.) বলেছেন, একজন মুখলিস আমলদার মুমিন তার নেক কাজগুলো এমনভাবে গোপন রাখে যেভাবে সে তার কৃত পাপ কাজসমূহ লুকিয়ে রাখে।

আমরা যেন পূর্ববর্তী আলেমদের এসব দর্শন, চিন্তাধারা ও জীবনদর্শন থেকে শিখতে পারি। আল্লাহ আমাদের সবার ইখলাস বাড়িয়ে দিন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত