দলের নারী সংসদ সদস্যকে লাঞ্ছনা আ.লীগ নেতার!

আপডেট : ১৯ আগস্ট ২০২৩, ০৬:৩২ এএম

১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদের আলোচনা সভায় জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরাকে ওই উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে সিরিজ বোমা হামলা দিবসের আলোচনা সভায় এ ঘটনা ঘটে।

জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য হোসনে আরা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জামালপুর-শেরপুর আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য। উপজেলা আওয়ামী লীগের কোনো অনুষ্ঠানে আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয় না। আমি দলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই সব অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার চেষ্টা করি। তারই ধারাবাহিকতায় রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত সিরিজ বোমা হামলা দিবসের আলোচনা সভায় যাই। আলোচনা সভায় গিয়ে কেন আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানের বিষয়ে বলা হয় না, বিষয়টা জানতে চাই। হঠাৎ করেই উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন উত্তেজিত হয়ে তর্কবিতর্ক শুরু করেন। তিনি আমাকে সম্মানহানিকর কথা বলেন। একপর্যায়ে ওই উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আমাকে লাঞ্ছিত করেন। পরে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ ফরিদুল হক খান দুলাল ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত হন। এ সময় আমি তাকে বলি, আপনার লোক আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। পরে তিনিও আমার ওপর উত্তেজিত হন। এ পরিস্থিতি দেখে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আমাকে বাসায় নিয়ে আসে। পরে আমি ঘটনাটি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও  সাধারণ সম্পাদককে অবগত করে তাদের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছি।’

এ বিষয়ে ইসলামপুর পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সিনার বলেন, ‘অনুষ্ঠানে জামালপুর-শেরপুর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য হোসনে আরাকে দাওয়াত দেওয়া হয় না। এ ঘটনায় তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন করেন, কেন তাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তার এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার কথা সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকের। কিন্তু তাদের উপস্থিতিতে তার কথার পাল্টা উত্তর দেন উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। তিনি তাকে উত্ত্যক্তমূলক কথা বলেন।’

উপজেলা যুবলীগের সদ্য সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘আসলে ঘটনা যেটুকু, যেভাবে শুনলাম অত্যন্ত দুঃখজনক।’

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ইসলামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল হক খান দুলাল বলেন, ‘সিরিজ বোমা হামলা দিবসের অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে তিনি গেলেন। তিনি যাওয়ার পরে আনোয়ার তাকে বসতে বলেন। এমন সময় তিনি বলেন, “আমাকে কেন তুমি বসতে বলো, আমাকে কি দাওয়াত দিছো।” পরে সে বলছে, “আমি দাওয়াত দেওয়ার কে? আমি তো দাওয়াত দেওয়ার কেউ না। আমি দপ্তর সম্পাদক হলে আমাকে বলতে পারতেন। আমি তো দপ্তর সম্পাদক না। এটা বললে আপনি সভাপতিকে বলতে পারেন।” “হ্যাঁ, তুই বেশি কথা বলোস, এমন সাউটিং শুরু করছে, সেটা বলার বাইরে।” তারপর তিনি ওর হাতে থাপ্পড় মারে নাই, ধাক্কা দিছে। পরে ওর হাতটা তার হাতের ওপর লাগছে। ভাগ্য ভালো যে সে দাঁড়াই নাই। সে বসে বলছে, “আমার অপরাধটা কী? আপনাকে আমি ভালোর জন্য, বসার জন্য বললাম, আর সেই আপনি আমার সাথে রাগারাগি করেন। দাওয়াত যে দেয়নি, তার সাথে কথা বলেন।” “হ্যাঁ, তুমি বেশি কথা বলো।” তারপরে তার ওপর যে পরিমাণ সাউটিং করছে আজকে, তা কল্পনার বাইরে। বরং আমি আনোয়ারকে ধমক দিয়েছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত