জ্বালানি স্থানান্তরে ট্রেসেল ক্রেন স্থাপন

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৩, ০১:১৭ এএম

পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ট্রেসেল ক্রেন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এটি কেন্দ্রটিতে ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং-রিলোডিং এবং ভারী যন্ত্রপাতি তোলার কাজে ব্যবহার হবে।

নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া এই বিদ্যুৎ প্রকল্প আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা।

বাংলাদেশের একক প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বড় অবকাঠামো এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ২০২৪ সালে এবং এরপরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট করে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।

রসাটমের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২২৫ টন ওজনের ওই ট্রেসেল ক্রেনটি রাশিয়ায় তৈরির পর এটিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকায় আনা হয়। ক্রেনের অংশগুলো সংযোজনের কাজ সম্পন্ন করা হয় প্রকল্প এলাকায়। বিশালাকার এই ক্রেনটির উত্তোলন ক্ষমতা ৩৬০ টন।

রূপপুর প্রকল্পের নির্মাণকাজের পরিচালক আলেক্সি দেইরি জানান, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চলাকালীন অত্যন্ত ভারী যন্ত্রপাতি এবং জ্বালানির লোডিং-রিলোডিংয়ে ক্রেনটি ব্যবহৃত হবে।’

প্রকল্প সূত্রমতে, ইতিমধ্যে রাশিয়ায় কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের জন্য পারমাণবিক জ্বালানি উৎপাদন কাজ শেষ হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসে রাশিয়া থেকে ওই জ্বালানি বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. শৌকত আকবর দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং কাজ শেষে উৎপাদন শুরু করতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে। জ্বালানি হ্যান্ডলিং করতে প্রয়োজনীয় জনবল তৈরিতে কোনো সমস্যা নেই। দেশের এবং আইএইএর সব ধরনের নিয়মকানুন মেনে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিদল নিরাপত্তাসহ অন্যান্য বিষয় সরেজমিনে পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। প্রকল্পের অগ্রগতি এবং পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়নে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত