লিঙ্গ বৈষম্যমূলক শব্দে নিষেধাজ্ঞা

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৩, ০১:২৭ এএম

বিচার ব্যবস্থায় লিঙ্গ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘হ্যান্ডবুক অন কমব্যাটিং জেন্ডার স্টিরিওটাইপস’ শীর্ষক পুস্তিকা প্রকাশ করেছেন। তাতে আইনসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি এবং রায়ের কপিতে লেখা যাবে না এমন ৪০টি শব্দের উল্লেখ করা হয়েছে।

ইন্ডিয়া টুডে জানায়, এ তালিকায় রয়েছে ‘প্রস্টিটিউট’, ‘লেডিলাইক’, ‘কেরিয়ার উইম্যান’, ‘ইভটিজিং’-এর মতো শব্দ। বৈষম্যমূলক এসব শব্দের বিকল্প শব্দও বলে দেওয়া হয়েছে পুস্তিকায়। যেমন ‘পতিতা’ শব্দটি ব্যবহার করা যাবে না। লিখতে বা বলতে হবে ‘সেক্স ওয়ার্কার’ বা ‘যৌনকর্মী। ‘হাউজওয়াইফ’-এর বদলে ‘হোমমেকার’ ব্যবহার করতে হবে।

তালিকা অনুযায়ী ‘অ্যাফেয়ার’ কথাটিও লেখা বা বলা যাবে না। পরিবর্তে ব্যবহার করতে হবে ‘রিলেশনশিপ আউটসাইড অফ ম্যারেজ’। একইভাবে ‘ইভটিজিং’ শব্দের পরিবর্তে লিখতে হবে ‘স্ট্রিট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ বা ‘পথে যৌন হেনস্থা’। ‘আনওয়েড মাদার’ বা ‘অবিবাহিত মা’ লেখা বা বলা যাবে না। এক্ষেত্রে শুধু ‘মা’ কথাটিই ব্যবহার করতে হবে।

হ্যান্ডবুক অন কমব্যাটিং জেন্ডার স্টিরিওটাইপস পুস্তিকায় বলা হয়েছে, এখন থেকে এমন বিকল্প শব্দগুলোই ব্যবহার করতে হবে এবং এর ব্যবহারও বাড়াতে হবে।

‘কর্তব্যপরায়ণ স্ত্রী’ এবং ‘আজ্ঞাবহ স্ত্রী’-এর মতো শব্দগুলো উচ্চারণ এড়িয়ে চলা উচিত বলে পুস্তিকায় উল্লেখ করা হয়। সেইসঙ্গে ধর্ষণের ক্ষেত্রেও নারীদের সম্পর্কে কোনো অসম্মানজনক উক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলছেন, এই বদলের উদ্দেশ্য, লিঙ্গ বিষয়ে সচেতনতা গড়ে তোলা। যাতে আগামী দিনে আদালতের দেওয়া বিভিন্ন রায়ে এর প্রতিফলন ঘটে। লিঙ্গ সম্পর্কিত গতানুগতিকতা ভাঙতেই এমন উদ্যোগ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত