কক্সবাজার শহরে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। তার নাম সাইফউদ্দিন আহমেদ (৪৫)। গতকাল সোমবার সকালে শহরের হলিডে মোড়ের হোটেল সানমুনের দোতলার ২০৮ নম্বর কক্ষ থেকে হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার সঙ্গে হোটেল কক্ষে যাওয়া কায়সার হামিদ নয়ন নামে একজন পলাতক রয়েছেন।
সাইফউদ্দিন কক্সবাজার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ঘোনারপাড়ার আনসার কমান্ডার আবুল বশরের ছেলে। তিনি কাদেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি। এ ছাড়া জেলা ছাত্রলীগসহ নানা ইউনিটের সাবেক ছাত্রনেতা ছিলেন। এদিকে আওয়ামী লীগ নেতা সাইফউদ্দিন হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনরা। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা। এ ছাড়া খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার দাবিতে জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা।
হোটেল সানমুন থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গত রবিবার বিকেল ৫টায় সাইফউদ্দিন ও সাদা পাঞ্জাবি-পায়জামা পরিহিত আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক যুবক হোটেলের ২০৮ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। এরপর রাতেই হোটেল থেকে সাইফউদ্দিনের মোটরসাইকেল নিয়ে বেরিয়ে যান ওই যুবক। গতকাল সাইফউদ্দিনের আরেক বন্ধু বৈরাম মোহাম্মদ ইলিয়াছ তাকে হোটেলে খুঁজতে আসেন। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ রক্তাক্ত মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
হোটেল ম্যানেজার রেজাউল বলেন, ‘সাইফউদ্দিন ও তার বন্ধুরা প্রায় সময় এই হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিতেন। এ কারণে সাইফউদ্দিন হোটেলে সবার কাছে পরিচিত। রবিবার যখন তিনিসহ আরেকজন মাস্ক পরিহিত কক্ষ ভাড়া নিতে আসেন তখন আমরা শুধু সাইফউদ্দিন নামই খাতায় নথিভুক্ত করি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রবিবার কক্ষ ভাড়া নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই সাইফউদ্দিনের সঙ্গে আসা অন্যজন অর্ধভেজা পাঞ্জাবি পরিহিত অবস্থায় হোটেল থেকে বের হন। তিনি যাওয়ার সময় সাইফউদ্দিনের মোটরসাইকেল নিয়ে গেছেন। যার ফুটেজ আমাদের সিসিটিভিতে সংরক্ষিত রয়েছে।’
নিহত সাইফউদ্দিনের বন্ধু শহরের কলাতলীর বৈরাম মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বিকেলে হাঁটতে বের হই। কিন্তু রবিবার তার সঙ্গে আমার দেখা হয়নি। রাতে সাইফউদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তার স্ত্রী আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে বিভিন্ন জায়গায় খবর নিই। সকালবেলা হোটেলে আসি। এখানে এসে তার রক্তাক্ত মৃতদেহ দেখতে পাই।’
নিহতের আরেক বন্ধু কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের ব্যক্তিগত সহকারী মোহাম্মদ আলী ছোটন বলেন, ‘সাইফের মৃতদেহ উদ্ধারের পর আমরা হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখি। সেই ফুটেজে সাইফের সঙ্গে যাকে দেখা গেছে তার নাম কায়সার হামিদ নয়ন। তিনি তার দূরসম্পর্কের শ্যালক।’
ছোট ভাই মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমার বড় ভাইয়ের মৃতদেহ বিছানায় পড়ে থাকলেও তার সঙ্গে হোটেলে ওঠা ওই যুবকের কোনো খবর নেই। এ ছাড়া আমার ভাইয়ের মোবাইল, মোটরসাইকেলের সন্ধান পাইনি এখনো।’
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কাউকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে কি না তা বলার সময় এখনো হয়নি। আমরা কাজ করছি, আমাদের কাজ করতে দেন।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘নিহতের প্যান্টের বেল্ট দিয়ে হাত দুটি বাঁধা ছিল। তার শরীরে তিনটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হোটেলে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে সঙ্গে থাকাদের শনাক্ত করতে কাজ করছে পুলিশ। আশা করছি শিগগিরই এ হত্যার রহস্য উন্মোচন করতে পারব।’
