অনেক সময় আমাদের স্মার্টফোনের ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। জেনে নিন এই সমস্যায় কি করবেন অ্যারো প্লেন মোড চালু ও বন্ধ করা : স্মার্টফোনের ইন্টারনেট সংযোগজনিত সমস্যা সমাধানে সহজ এবং দ্রুত উপায় হলো অ্যারো প্লেন মোড চালু ও বন্ধ করা। কাজটি করার জন্য ফোনের স্ক্রিনের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত সোয়াপ ডাউন করে কুইক সেটিংস প্যানেল নামিয়ে নিন। সেখানে অ্যারো প্লেন বা ফ্লাইট মোড অপশনটিতে ট্যাপ করে চালু করে কিছু সময় অপেক্ষা করুন। কিছু সময় পরে পুনরায় সেখান থেকে অ্যারোপ্লেন বা ফ্লাইট মোড বন্ধ করে দিন।
সিগন্যালের শক্তি চেক করা : রাউটার কিংবা এক্সেস পয়েন্টের কাছাকাছি অবস্থানে থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করা। ফোনের ওয়াইফাই ইন্ডিকেটরকে সবসময় দুই-
তৃতীয়াংশ ভরাট রাখার চেষ্টা করুন। এতে করে বাহ্যিক অবকাঠামো কিংবা ওয়্যারলেস ইন্টারফেসের কারণে কোনো প্রকার এলোমেলো সংযোগ বিচ্ছিন্নের সম্মুখীন হবেন না।
নেটওয়ার্ক মুছে নতুন করে সংযুক্ত করা : অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একটি ওয়ারলেস নেটওয়ার্ক মুছে ফেলে পুনরায় সংযুক্ত করার ফলে সহজেই ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন। তবে এটি মূলত একটি নির্দিষ্ট ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় এই সমস্যার সম্মুখীন হলে এটি করতে হবে।
রাউটার বা মডেম রিস্টার্ট করা : রাউটারের বা মডেমের গ্লিচগুলো সব ধরনের সংযোগজনিত সমস্যা তৈরি করে। যদি আপনার অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসটি একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখতে সমস্যা হতে থাকে, তাহলে রাউটারের কাছে গিয়ে পাওয়ার বাটনে প্রেস করে ১০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে পুনরায় চালু করুন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোন রিবুট করা : ফোনের পাওয়ার বাটন প্রেস করে ধরে রাখুন এবং রিস্টার্টে ট্যাপ করুন। কিছু কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে একই সঙ্গে পাওয়ার বাটন এবং ভলিউম আপ অথবা ডাউন বাটন চেপে ধরে রাখলে রিস্টার্টের অপশন আসে। আপনার ফোনের ক্ষেত্রে যেভাবে রিস্টার্ট করা যায় সেটা করে অ্যান্ড্রয়েড ফোন রিস্টার্ট করুন।
অ্যাডাপটিভ ওয়াইফাই এবং কানেকশন বন্ধ করা : কিছু কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাডাপটিভ কানেকশন নামে একটি ফিচার রয়েছে। এটি ওয়াইফাইয়ের সিগন্যালের শক্তির ওপর ভিত্তি করে ওয়াইফাই ম্যানেজ করে থাকে, যার কারণে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল দীর্ঘায়িত হয়। এই ফিচারটি বন্ধ করে দিলে হুটহাট ওয়াইফাই কানেকশন বন্ধ হওয়া থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।
ওয়াইফাই কানেকশন বিশ্লেষণ ও পুনরায় কনফিগার করা : আপনার ওয়াইফাই বিশ্লেষণ করে নিতে পারেন। এক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়লে চ্যানেল বা গিগাহার্জ ব্যান্ড পরিবর্তন করে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি রাউটারটি ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডে সম্প্রচার করে, কিন্তু নেটওয়ার্কটি ওয়াইফাই হটস্পটগুলোর আশপাশে ওভারল্যাপ করে, আপনি ১, ৬, ও ১১ চ্যানেলগুলো ব্যবহার করতে বা ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে গিয়ে দেখতে পারেন।
ফোনের অপারেটিং সিস্টেম আপডেট করা : আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের বা আইফোনের সফটওয়্যার আপডেট জানতে ও ইন্সটল করতে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংস মেনুতে গিয়ে সিস্টেম সেকশনে থাকা সিস্টেম আপডেট বা সফটওয়্যার আপডেট ট্যাপ করুন।
নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করা : যদি ওপরে বর্ণিত কোনো উপায়েই আপনি আপনার সমস্যার সমাধান না করতে পারেন তাহলে আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করতে পারেন। আপনার ফোনে যদি এমন কোনো সেটিংস অন থাকে যেটি আপনার ওয়াইফাই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ব্যাপারে ব্যবহৃত হচ্ছে তাহলে এই নেটওয়ার্ক সেটিংস রিসেট করার মাধ্যমে সেটি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
