স্মার্ট বন্দরের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩৮ এএম

স্মার্ট বন্দরের পথে এগোচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, বে টার্মিনাল, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পসহ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে আরও আধুনিকায়নের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১ ও ২০৪১ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে চট্টগ্রাম বন্দর বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবে। প্রায় চার মাস আগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর গতকাল মঙ্গলবার বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে মিডিয়ার সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মেদ সোহায়েল।

পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল বন্দরের টাকায় নির্মাণ হলেও এখনো চালু না হওয়া প্রসঙ্গে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, এই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য সৌদি আরবের একটি কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। কিন্তু কোন কোন শর্তে কীভাবে তা পরিচালিত হবে তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত বন্দর কর্তৃপক্ষ এখন যেভাবে জেটিটি ব্যবহার করছে তা অব্যাহত থাকবে।

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে বিদেশি কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, বিশে^র সব বন্দরেই টার্মিনাল পরিচালনার জন্য প্রাইভেট কোম্পানির কাছ থেকে দর আহ্বান করা হয়। যার দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উপযোগী মনে করে, পরিচালনার জন্য তাকেই মনোনীত করে। আমাদের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি গ্রহণ করা হবে।

প্রায় ৯ বছর ধরে বে টার্মিনাল নিয়ে আলোচনা চললেও বাস্তবে এর অগ্রগতি প্রায় শূন্য। তবে বে টার্মিনাল নিয়ে আশাবাদী বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, ‘শিগগিরই আমরা এর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব। বে টার্মিনালের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ শেষ।’

সোহায়েল বলেন, ‘আমাদের মাতারবাড়ী বন্দরের জেটি ইতিমধ্যে কয়লাবাহী জাহাজ ভেড়ার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। শিগগিরই এই বন্দরের সঙ্গে সড়ক ও রেলযোগাযোগ তৈরির নেটওয়ার্ক কাজও শেষ হবে। সে লক্ষ্যে কাজ চলমান রয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রধান গেটওয়ে হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাতারবাড়ী বন্দর এই অঞ্চলের সমুদ্র বাণিজ্যে একটি হাব হতে যাচ্ছে। ভারতের সেভেন সিস্টার্সসহ আশপাশের রাজ্যগুলোর পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়েই পরিবাহিত হবে। এতে আঞ্চলিক উন্নয়নে চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব বাড়বে।

কর্ণফুলী নদী চট্টগ্রাম বন্দরের প্রাণ। তাই কর্ণফুলী নদীকে রক্ষার জন্য চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মোহাম্মদ সোহায়েল বলেন, ‘ময়লা আবর্জনা দিয়ে ভরাটের হাত থেকে কর্ণফুলীকে রক্ষা করতে হবে। জোয়ার-ভাটা প্রভাবিত এই নদীতে জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা প্রায় ১১ ফুট বেড়ে যায়। এটা প্রকৃতির বিশেষ দান।’ মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য মো. শহীদুল আলম, পরিচালক মো. মমিনুর রশিদ, সচিব মো. ওমর ফারুক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত