পশ্চিমাদের দেখাতে জঙ্গিবাদের নাটক হচ্ছে : ফখরুল

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৩, ০২:২২ এএম

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘পশ্চিমা বিশ্ব এবং ভারতকে দেখাতেই সরকার দেশে জঙ্গি-নাটক করছে। তারা দেখাতে চায়, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ আছে, জঙ্গি আছে এটাকে দমন করার জন্য শুধু তাদেরই দরকার। এটাই হচ্ছে তাদের মূল উদ্দেশ্য।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির একাংশের প্রতিষ্ঠাতা কাজী জাফর আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

স্মরণসভায় কাজী জাফরের বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান বিএনপি মহাসচিব। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকার ফায়দা হাসিল করতে নিরীহ মানুষকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে আটক করছে। দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, এটা তো তাদের পাপ নয়, অপরাধ নয়। সাধারণ মানুষের ওপর জঙ্গিবাদ চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা আজ মানুষের ওপর জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ চাপিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে। আসলে জঙ্গি হলো আওয়ামী লীগ, জঙ্গি এ সরকার। তারা এখানে সাধারণ মানুষের ওপর আজকে যে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ চাপিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষকে তারা হত্যা করছে, ধ্বংস করছে, তাদের সব অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।’

কয়েক দিন আগে ছাত্রদল নেতাদের বাসা থেকে গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে ৪৮ ঘণ্টার পর অস্ত্র মামলায় যুক্ত করে দেওয়া ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পত্রিকায় দেখেছেন তিনটা অস্ত্র। সেই অস্ত্রগুলো দেখে মনে হবে, ২০-২৫ বছর আগে মাটিতে লুকানো ছিল সেই অস্ত্র তুলে নিয়ে আসছে। এই মিথ্যা প্রচারণা, এই যে মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করা। ওরা সমস্ত দেশের মানুষকে বোকা মনে করে। এখন সবাই বোঝে এভাবে প্রতারণা করে সে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যিনি জোর করে প্রধানমন্ত্রী হয়ে বসে আছেন তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারকে বলেছেন খুনি। আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাকে খুন হতে হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করার অপরাধে কারাবন্দি করা হয়েছে। তাদের ছেলে তারেক রহমান দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সরকারের চক্রান্তে মিথ্যা মামলায় বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় থাকতে হচ্ছে।’

একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গ্রেডেন হামলা মামলার তিন-তিনটা চার্জশিটে তার নাম কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। কোনো সাক্ষী-প্রমাণ দেখাতে পারেনি। সেখানে চতুর্থ যে চার্জশিটে তৈরি করা হলো, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর সেখানে তার নাম যুক্ত করা হলো। মুফতি হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে বিএনপি সরকার। তাকে ১৪৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করে তাকে দিয়ে ফলস এফিডেভিট করিয়ে তারেক রহমানের নাম যুক্ত করা হয়। পরে ‍মুফতি হান্নান তার এফিডেভিট প্রত্যাহার করেছিলেন, সেই এফিডেভিট আদালতে হাজির করা হয়নি। আদালতে যাওয়ার আগেই তাকে আরেক মামলায় ফাঁসির হুকুম হয়েছিল, সেই ফাঁসি কার্যকর করা হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের বাইরে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের ভোটাধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাব না। আগে প্রধানমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে, সংসদ বিলুপ্ত করে দিয়ে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে, নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন করতে হবে। তাহলেই শুধু একটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে।’

দেশের তরুণ যুবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা যে লড়াই করছি তা ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে নয়, সেই লড়াইটা হচ্ছে মানুষের জন্য, তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য লড়াই। এখন আজকের তরুণদের দায়িত্ব হচ্ছে, এই ফ্যাসিবাদের হাত থেকে গণতন্ত্র ফিরে নিয়ে আসার মহান দায়িত্ব তাদের পালন করতে হবে। এটা আমার বিশেষ আবেদন।’

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। যুগ্ম মহাসচিব এ এস এম শামীমের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, বিএনপির জহির উদ্দিন স্বপন, জাতীয় পার্টির মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, ভাইস চেয়ারম্যান কাজী নাহিদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, মুজিবুর রহমান, মাওলানা রুহুল আমিন, সেলিম মাস্টার, কামাল উদ্দিন চৌধুরী, কাজী জাফর আহমেদের বড় মেয়ে কাজী জয়া প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত