নড়বড়ে সাঁকোই ২১ গ্রামের মানুষের ভরসা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০২৩, ১২:৩২ এএম

বরগুনার তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং ও চড়কগাছিয়া গ্রামের মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া খালের ওপর একমাত্র সাঁকোটি ২১টি গ্রামের মানুষের ভরসা। এটি দিয়ে হেঁটে এতদিন কোনো রকমে মানুষজন পারাপার হয়ে আসছিলেন। এখন যানবাহন চলাচল করার পাকা সেতুর দাবিতে দুইশো মিটার দৈর্ঘ্যরে সাঁকোটি ওই এলাকার মানুষজনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়, জেলার আমতলী ও তালতলী উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া, আরপঙ্গাশিয়া, চান্দখালী, কলারং, ঘোপখালীসহ ওই এলাকার একুশটি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরসহ জেলার অন্যান্য স্থানের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম কলারং থেকে চড়কগাছিয়া বাঁশের তৈরি সাঁকোটি। প্রায় ৩০ বছর আগে খালে খেয়ানৌকা পারাপার বন্ধ হয়ে গেলে স্থানীয়রা উদ্যোগ নিয়ে ওই খালের ওপর দুইশ মিটার বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। এরপর থেকে স্থানীয়রা প্রতি বছরই এই সাঁকো মেরামত করে পারাপারের ব্যবস্থা করেন। খালের দুই পাড়ে রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়।

এই এলাকার উৎপাদিত খাদ্যশস্য, কৃষিপণ্যসহ বিভিন্ন কাঁচামাল বাজারজাতকরণ ও রোগীর জরুরি চিকিৎসার জন্য নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। এতে ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এসব এলাকার বাসিন্দাদের।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই খালের ওপর সেতু নির্মিত হলে পাল্টে যাবে দুই পাড়ের হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষ হলে তা আর বাস্তবায়ন করেন না তারা। এখন পর্যন্ত সেতু হয়নি, তাই এলাকাবাসী বাধ্য হয়ে নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে এ বাঁশের সাঁকো স্থাপন করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং থেকে চড়কগাছিয়া গ্রামে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এ সাঁকো। গ্রামের শতাধিক শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করছে। এ সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং মাদ্রাসা ও কলেজের অর্ধসহস্রাধিক শিক্ষার্থীকে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় শহিদুল ইসলাম বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমাদের জমি থেকে উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে খুব কষ্ট হয়। বিকল্প রাস্তা দিয়ে কৃষিপণ্য নিতে দ্বিগুণ খরচ হয়। এতে আমরা পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হই।

স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলিফ জানায়, বাঁশের সাঁকো পার হয়ে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে যেতে ভয় করে।

পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল রাজ্জাক হাওলাদার বলেন, এখানে সেতু নির্মাণে আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি নেই।

তালতলী উপজেলা প্রকৌশলী ইমতিয়াজ হোসাইন রাসেল বলেন, এই খালের ওপর সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব তৈরি করে ঢাকায় পাঠানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত