প্রিগোজিনের মৃত্যু সরব পশ্চিম নীরব পুতিন

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩, ০২:০৯ এএম

মস্কো থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গগামী ব্যক্তিগত যে উড়োজাহাজটি রাশিয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে, তাতে ভাড়াটে সেনাদল ওয়াগনারের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন ছিলেন বলে রুশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। যদিও এখনো প্রিগোজিনের মৃত্যুর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ওয়াগনার প্রধানের মৃত্যু নিশ্চিত করা না হলেও পশ্চিমা বিশ্ব মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই এ ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাত থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।  বাইডেন বলেন, ‘আসলে কী ঘটেছে (উড়োজাহাজটি কেন বিধ্বস্ত হয়েছে) তা আমি জানি না, তবে আমি বিস্মিত নই।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়ায় খুব বেশি ঘটনা ঘটে না, যার পেছনে পুতিন নেই। যদিও আমি জানি না, আসলে সেখানে কী ঘটেছে।’

প্রিগোজিনের উড়োজাহাজ ধ্বংসের ঘটনায় ইউক্রেনের কোনো হাত নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই জানি এ ঘটনার পেছনে কে আছে।’ 

যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার (এমআই৬) সাবেক প্রধান ক্রিস্টোফার স্টেলে বলছেন, প্রিগোজিনের এমন পরিণতি হওয়ারই ছিল। তার মতে, পুতিনের সম্মতিতেই নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চপদস্থরা এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। একই কথা বলছেন ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তারাও। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির এক উপদেষ্টা মিখাইলো পোদোনিয়াক বলেন, প্রিগোজিন যখন মস্কোর ২০০ কিলোমিটার দূরে থাকতে অভ্যুত্থান থামিয়ে দিয়েছেন, তখনই নিজের মৃত্যু পরোয়ানায় স্বাক্ষর করেছেন তিনি।

পশ্চিমারা সরব হলেও প্রিগোজিন কিংবা এ উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে এখনো নীরব পুতিন। বুধবার উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে ওয়াগনার প্রধানের মৃত্যুর খবর আসার পর একটি ব্রিকস সম্মেলনে ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। আন্তর্জাতিক ওই সম্মেলনে যোগ দিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বললেও প্রিগোজিন কিংবা ওই বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে তাকে কোনো কথা বলতে শোনা যায়নি।

ওয়াগনারের কী হবে

বুধবার প্রিগোজিনের উড়োজাহাজটি দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বিধ্বস্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি রুশ বার্তা সংস্থাগুলোতেও একথা বলা হচ্ছে। উড়োজাহাজটির সবাই নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে, প্রিগোজিন সেখানে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে।  

শুধু প্রিগোজিনই নন, তার সঙ্গে একই উড়োজাহাজে ছিলেন ওয়াগনারের আরেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দিমিত্রি উতকিন। জুনে ওয়াগনার বাহিনী বিদ্রোহ করে মস্কোর পথে যে রওনা দিয়েছিল সেটির সঙ্গে জড়িত ছিলেন উতকিন। ভাড়াটে এ সেনা সিরিয়ায় তেলখনিগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্বেও ছিলেন। ওয়াগনার সংশ্লিষ্ট টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলোতে বলা হয়েছে, ওই উড়োজাহাজে ওয়াগনার বাহিনীর আরও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ছিলেন। তাদের সবার মৃত্যুতে ওয়াগনারের নেতৃত্ব আসলেই সংকটে পড়ল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও আফ্রিকার দেশগুলোয় অবস্থানরত ওয়াগনার সেনাদের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আজ্ঞাবহ নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন থাকবে, তিনি প্রিগোজিনের শূন্যস্থান পূরণ করতে পারবেন কি না।

প্রসঙ্গত, বিদ্রোহের পর ওয়াগনার গ্রুপের সেনাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় বেলারুশে। তবে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বেলারুশে যাওয়া সেসব সেনা দেশটি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বেলারুশে যাওয়া সেনাদের মধ্যে অনেকে বেতন নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন, এ কারণে অনেকে পূর্ব আফ্রিকার দেশে চলে যাচ্ছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বেলারুশে ওয়াগনারের সেনার সংখ্যা প্রথমে ৫ হাজার হলেও সেটি চার ভাগের তিন ভাগ কমে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত