গণঅধিকার পরিষদের একাংশের আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, এ সরকারের পতন এখন সময়ের ব্যাপার। তাদের চতুর্দিকে অন্ধকার আর অন্ধকার, কোথাও পালানোর পথ নেই। কারণ গণতান্ত্রিক বিশ্বের তাদের কোনো বন্ধু নেই। সব দরজা বন্ধ।
শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে চলমান যুগপৎ সরকার পতনের এক দফা দাবিতে কালা পতাকা মিছিলে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, রাশিয়া, চীন ও ভারত এই সরকারের অবৈধ কার্যক্রমকে প্রকাশ্যে-গোপনে সমর্থন দিচ্ছে। আমরা স্পষ্ট বলে দিতে চাই, এসব দেশের ভিনদেশি আধিপত্য-আগ্রাসন এদেশের মানুষ মেনে নেবে না। শেখ হাসিনাকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিতেই হবে।
তিনি বলেন, এ সরকারের গণতান্ত্রিক বিশ্বে কোনো বন্ধু না থাকলেও চীন, রাশিয়া ও ভারতের মতো কিছু সাম্প্রদায়িক, একনায়কতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রের সমর্থন পাচ্ছে। এসব রাষ্ট্রের কুশীলবরা প্রকাশ্যে-গোপনে এ সরকারকে আস্কারা দিচ্ছে। এ দেশগুলো বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিতে বামপন্থী আগ্রাসন চালিয়েছে। যার প্রমাণ গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছে আছে। আমরা ওইসব ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রগুলোকে বলতে চাই, আমরা বেচেঁ থাকতে এদেশে ভিনদেশি আধিপত্য-আগ্রাসন মেনে নেব না। জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও ভোটাধিকার, মানবাধিকার ও সুশাসনের জন্য প্রাণপন লড়াই-সংগ্রাম করব।
গণঅধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই উর্ধ্বগতির মধ্যেও ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার দেশের বাজারে কেজি প্রতি ২০ টাকা বেড়ে গেছে। নিম্ন আয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শেখ হাসিনার না ভারতের সাথে স্বামী-স্ত্রীর মতো সম্পর্ক? তাহলে ভারতের থেকে পেঁয়াজের শুল্ক কমাতে পারছে না কেন? তাঁবেদারি তো ঠিকই করেন, কিন্তু ন্যায্যতার ভিত্তিতে কিছুই আদায় করতে পারছেন না।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফারুক হাসান বলেন, ‘আপনাদেন সময় শেষ। চীন-ভারত বা রুশ-ভারতের তাঁবেদারি করেও শেষ রক্ষা হবে না। এদেশের মানুষ আপনাদের অপশাসন আর মেনে নেবে না। অবিলম্বে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা দিন।
বক্তব্যে গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আ্বায়ক কর্ণেল মিয়া মসিউজ্জামান বলেন, দেশ থেকে এস আলম গ্রুপের ১০ হাজার কোটি টাকা পাচার ও বেক্সিমকো গ্রুপের ২২ হাজার কোটি টাকা বিশেষ বিবেচনায় ঋণ নেওয়ার ঘটনার নিন্দা জানাই। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
গণঅধিকার পরিষদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফ বিল্লার সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেন, সাবেক বিচারক শামসুল আলম খান চৌধুরী, অধ্যাপক মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার জিসান মহসীন, মুফতি সুহাইবি, যুগ্ম সদস্য সচিব আতাউল্লাহ খান, তারেক রহমান, সাকিব হোসেন, সামসুদ্দিন, সহকারী আহ্বায়ক এডভোকেট শিরিন আকতারসহ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের নেতাকর্মীরা।
