এমপিকে ‘অপহরণের’ সাড়ে ৬ মাস পর মামলা!

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০২:৪০ এএম

নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীর প্রতীককে অপহরণের অভিযোগে পূর্বধলা থানায় মামলা হয়েছে। গত বুধবার এমপির স্ত্রী রওশন হোসেন বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে এই মামলা করেন। গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানান পূর্বধলা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ বাড়ি কাজলা থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় অপহরণের শিকার হন এমপি ওয়ারেসাত। পরে ২৭ মার্চ বিকেলে তাকে রাজধানীর ধানম-ির একটি বাসা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে নিজ বাড়ি কাজলা থেকে আসামিরা এমপিকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে তাকে বাসভবনে না নিয়ে আরেক জায়গায় আটকে রাখে। আসামিরা এমপির স্ত্রীকে জানান, তিনি বিদেশ চলে গেছেন। কিন্তু এমপির স্ত্রী তাদের কথা বিশ্বাস না করে খোঁজা অব্যাহত রাখেন। পরে আসামিরা এমপির স্বাক্ষর জাল করে জাল তালাকনামার ফটোকপি মামলার বাদীর (এমপির স্ত্রী) কাছে পাঠান। এমপি ও এমপির পরিবারকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আসামিরা জাল কাবিননামা ডাকযোগে বিভিন্ন অফিসে পাঠায়। বিভিন্নভাবে খোঁজার একপর্যায়ে ২৭ মার্চ বিকেলে এমপিকে ধানম-ির একটি বাসা থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া এমপি ও মামলার সাক্ষীদের মাধ্যমে জানা যায়, আসামিরা আটক অবস্থায় এমপির ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চাকরি দেবে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। ২৮ মার্চ এমপিকে চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়া নিয়ে গিয়ে সুস্থ করে ১১ আগস্ট দেশে এসে মামলা করা হয়। তবে মামলার এক আসামি নাদীয়া আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার এত দিন পর একজন এমপিকে অপহরণ করার অভিযোগ দায়ের হাস্যকর ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অনেকে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ও সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।’

পূর্বধলা থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম মামলা হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টির তদন্ত চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত