শেখ হাসিনাকে আরেকবার ক্ষমতায় বসানোর শপথ নিতে হবে: শাজাহান

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৫৬ পিএম

বিএনপিকে খুনির দল দাবি করে আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেছেন, বিএনপি শপথ নিয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যূত না করে ঘরে ফিরবে না। আমরা শপথ নিয়েছি শেখ হাসিনাকে আবারও ক্ষমতায় না বসিয়ে ঘরে ফিরবে না। জয় আমাদেরই হবে। খুনির দল বিএনপির শপথ টিকবে না।

শনিবার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কনিশন গঠনের দাবিতে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির আয়োজনে অবস্থান কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী।

দেশের তরুণ প্রজন্মে একাত্তরের ন্যায় আরেকটি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে অনুরোধ জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ৭১ সালে যেমন আমরা গর্জে ওঠেছিলাম ঠিক সেভাবে এখন তোমাদের গর্জে উঠতে হবে। জয় আমাদেরই হবে। আগে জনগণ বিএনপির দুর্নীতির কথা জেনেছে এখন জনগণ বিএনপির ভন্ডামির কথা জেনে গেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি আমেরিকার ভিসা নীতি ঘোষণায় ভীষণ খুশি। বিএনপির নেতা তারেক রহমানই তো ভিসা নীতির শিকার। ২০০৭ সালে আমেরিকার ভিসা চেয়ে পায় নি তারেক। সেই তারেক বড় বড় গলায় কথা বলে।

বিএনপি শেখ হাসিনার পদত্যাগের দাবি জানিয়ে শাজাহান খান বলেন, ভাবখানা এমন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে তারা। বাংলাদেশের জনগণ শেখ হাসিনাকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসিয়েছে। জনগণ চাইলে তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, না চাইলে চলে যাবেন।

সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, বিএনপি আন্দোলন করে আর ভাবে গণঅভ্যূত্থান কেন হয় না? তিনি বলেন, যে জনগণকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরেছেন সে জনগণ আপনাদের পাশে নেই, কেমনে হবে।

বিএনপির শাষনামলে বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের কথা তুলে ধরে শাজাহান খান বলেন, এরা ক্ষমতার বাইরে থাকলেও খুন করে। ২০১৪-২০১৫ সালের আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে মারার চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের হুকুমদাতা ও ষড়যন্ত্রকারী দাবি করে তিনি বলেন, এ কথা বললে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নাখোস হন। আমি বলতে চাই, আত্মস্বীকৃত খুনীরা যখন জিয়ার হুকুমের কথা বলে গেছে তখন কী করবেন। মেজর ডালিম, রশীদ ও ফারুক বিবিসিতে সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছে, জিয়ার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা।

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠণ করুন। তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট আসলেই আইনমন্ত্রী বলে তদন্ত কমিশন গঠন করার কথা। এরপর কোনে অগ্রগতির কথা আমরা জানি নি। দেলোয়ার বলেন, দ্রুত তদন্ত কমিশন গঠণ করুন। তা না হলে আরও বড় কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবো আমরা তরুণ প্রজন্মরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক হারুন-অর রশীদ বলেন, আজকে রাজনীতিতে যে সংকট চলছে তার মূলে রয়েছে ১৫ আগস্ট। ওই বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে গিয়েছিল বলে খুনিদের কিলিং মিশন সম্পন্ন হয়নি। এজন্যই ২১ আগস্ট ঘটাতে চেয়েছিল তারা। সিআইয়ের দলিলসহ বিভিন্ন তথ্য প্রমাণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়া জড়িত ছিল, কোনো সন্দেহ নাই। জিয়াকে অনেকেই বলেন বেনিফিশায়ারি আমি বলি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে জিয়া সরাসরি যুক্ত ছিল।

এ হত্যাকাণ্ডের পেছনের কুশীলবদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি করে এ অধ্যাপক বলেন, আমি আইনমন্ত্রীকে বলব আরেকটি প্রবিশন যুক্ত করতে সেখানে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত যারা মারা গেছেন তাদের মরণোত্তর বিচার থাকতে হবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ নজির রয়েছে দাবি করেন তিনি।

আগামী নির্বাচন ঘিরে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে দাবি করে অধ্যাপক হারুন বলেন, এখন আর আপোষ করা সুযোগ নাই। ৭০ সালের নির্বাচনের মত গণজোয়ার তুলতে হবে, সেই গণজোয়ারে খড়কুটোর মত ভেসে যাবে তারা।

বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকনিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাহাদুর বেপারী, রফিক কোতোয়াল, আফতাব আলী খান, ব্যরিস্টার ফারজানা মাহমুদসহ উপকমিটির সাবেক সদস্যরা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ঘটনায় নির্মিত একটি প্রমাণ্য চিত্র দেখানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত