হাঁস-মুরগি ও ছাগলের ঘর নির্মাণে দুর্নীতি

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০২৩, ১১:৩৭ পিএম

লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় মানিকগঞ্জে হাঁস, মুরগি ও ছাগলের ঘর নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য ২০ হাজার টাকা কৃষকের নামে বরাদ্দ এলেও সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. খোকন কৃষকদের জোর করে চেকে স্বাক্ষর নিয়ে টাকা উত্তোলন করে নেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন তিনি।

খামারিরা অভিযোগ করেন, ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও ১০-১১ হাজার টাকা খরচ করে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা।

প্রকল্প এলাকা সাটুরিয়ার ফুকুরহাটি ও বালিয়াটির বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীনস্ত লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টটি প্রকল্প হিসেবে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় সাটুরিয়া উপজেলায়র বালিয়াটি ও ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ৫৩ জন খামারি নিয়ে ১৩টি দল গঠন করা হয়। চলতি বছরে বালিয়াটি ইউনিয়নের খলিবাদ গ্রামে ২৬টি, হাজিপুর গ্রামে ২৭টি হাঁস-মুরগির ঘর এবং ফুকুরহাটি ইউনিয়নে ২৩টি ছাগলের খামারের জন্য ৮০ বাই ৬০ ইঞ্চির টিনের ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে। প্রতিটি ঘরের জন্য ২০ হাজার টাকা আসে এবং প্রজ্ঞাপনে বলা হয় খামারিরা এর সঙ্গে ইচ্ছামতো টাকা বিনিয়োগ করে বড় করতে পারবেন। কিন্তু সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. খোকন ৫৩ জন খামারির ২০ হাজার টাকার চেক জোর করে জমা নেন। পরে তিনি ২০ হাজার উত্তোলন করে ১০ থেকে ১১ হাজার টাকার মধ্যে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ঘর নির্মাণ করিয়ে দেন।

বালিয়াটি ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের খামারিদের দলনেত্রী সাফিয়া বেগম বলেন, জোর করে ২০ হাজার টাকার চেক বইয়ে স্বাক্ষর নেন অফিসার। নিয়ম অনুযায়ী এ ঘরের টাকায় কৃষকরা আরও ইচ্ছেমতো টাকা দিয়ে ঘর বড় করতে পারত। আমি ৬০ হাজার টাকা যোগ করে বড় ঘর তৈরি করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু অফিসার তার লোক দিয়ে ঘর তৈরি করে দিয়েছে। এখন এই মুরগির ঘর আমার কোনো কাজে আসছে না।

রুমা বেগম নামে আরেক খামারি বলেন, আমরা ঘর তৈরি করতে চেয়েছিলাম। অফিসার বলে আপনারা ঘর দিলে আমাদের মনের মতো হবে না। তাই তারাই লোক দিয়ে ঘর বানিয়ে দিয়েছে। এ ঘর তৈরিতে সর্বোচ্চ ১১ হাজার টাকা খরচ করছে।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. খোকন বলেন, খামারিরা ঘর নির্মাণ করলে ২০ হাজার টাকায় পারতেন না। ঘরে কোনো ত্রুটি থাকলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জের কয়েকটি উপজেলায় খামারিদের হাতে টাকা দিলে তারা নিয়মমতো ঘর তৈরি করতে পারেননি। তাই সাটুরিয়ায় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নিজের তত্ত্বাবধানে ঘর নির্মাণ করে দিচ্ছেন। ঘর তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত